এই হাসপাতালে গত ২২ জুন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জনাব আলী ও ১৫ জুন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বেলালুজ্জামান ট্রলিতে উঠেই মারা যান। হরিদাসীর মতো তাঁরাও হাসপাতালের ওয়ার্ডে যেতে পারেননি। গত ১১ জুন ছটফট করতে করতেই মারা যান রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চককাপাশিয়া গ্রামের মোস্তফা আলী। তিনি অবশ্য ওয়ার্ডে গিয়ে পৌঁছেছিলেন। তার বেশি নয়, সেখানে গিয়েই মারা যান।

হরিদাসীর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার রায়পুর গ্রামে। থাকতেন মেয়ে ঝরনার শ্বশুরবাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া গ্রামে। মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে এসেছিলেন ঝরনা, তাঁর স্বামী হরেণ দাস ও তাঁর বোন।

হরেণ দাস জানান, এক সপ্তাহ থেকে তাঁর শাশুড়ির জ্বর ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দুপুরে তাঁকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসনে, কিন্তু চিকিৎসক তাঁকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর শাশুড়ি তখনো কথা বলছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সে তুলে রাজশাহীতে রওনা দেওয়ার পর দুই কিলোমিটার পথ আসার পর থেকে তিনি আর কোনো কথা বলেননি।

default-image

হরেণ বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে তাঁরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছান। তাঁকে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বেলা ২টা ৪১ মিনিটে তাঁকে হাসপাতালের ট্রলিতে তোলা হয়। ৪২ মিনিটে ঝরনা নিজেই মায়ের নাকে অক্সিজেনের পাইপ লাগান। এরপর ১ নম্বর ওয়ার্ডের ট্রলিতে তোলা হয়। ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁরা আবার ট্রলি নিয়ে ফিরে আসেন। হরেণ বলেন, তাঁরা ওয়ার্ড পর্যন্ত যেতেই পারেননি। তার আগেই শাশুড়ি মারা যান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন