বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল পর্যন্ত শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল ১৮ জন। আর গত ৫ দিনে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেয় ৫৬ রোগী। তীব্র শীতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। বিশেষ করে উপজেলার চিকলী, যমুনেশ্বরী, মরাতিস্তা ও ঘৃণই নদের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা শীতের কষ্টে আছে।

চিকলী নদীর পাড়ঘেঁষা জেলেপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম (৬৫) বলেন, ‘বাপু চাইর দিন থাকি হড়হড়া বাতাস হইতে আছে। বেলাও দ্যাকা (সূর্য দেখা) যাওচে না। গাও (শরীর) খালি ঠান্ডাতে কাঁপোছে।’

কুড়িগ্রামে গতকাল সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় ৩৭ এবং নিউমোনিয়া ও হাঁপানিতে আক্রান্ত ২৫ জন ভর্তি ছিলেন। হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র সরকার বলেন, ঠান্ডার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ সময় শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ তাঁর।

জেলাটিতে শীতের কারণে বেশি দুর্ভোগে আছে ১৬টি নদীর অববাহিকায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। শীতবস্ত্রের অভাবে চরের অনেক বাসিন্দা কষ্টে দিন যাপন করছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, জেলায় ইতিমধ্যেই ৩৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ৯ উপজেলায় আরও ১ কোটি ৯ লাখ টাকার শীতবস্ত্র বিতরণের কার্যক্রম চলছে।

বগুড়ায় গতকাল দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি জেলায় এবারের শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সকালে শহরের সাতমাথায় হুড তুলে রিকশায় জড়সড় হয়ে বসে থাকা ষাটোর্ধ্ব সাহেব আলী বলেন, ‘বিয়ানবেলা ঠান্ডাত জীবনডা বার হয়্যা যাচ্চে। রিকশাত পেডেল মারবার শক্তিডাও পাচ্চি না। দুডা কামাইয়ের ধান্ধাত রাস্তাত আসনো, শহর ফাঁকা, লোকজন নাই।’

নীলফামারীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলার সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি। এমন অবস্থা আরও দুই থেকে তিন দিন বিরাজ করতে পারে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া এবং প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, সৈয়দপুর ও বদরগঞ্জ, রংপুর]

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন