বর্ষার স্বজনের বরাতে পুলিশ জানায়, বর্ষার কাছে পাঁচ লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার যৌতুক দাবি করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এসব নিয়ে তাঁদের সংসারে ঝগড়া হতো। গতকাল রাত আটটার দিকে বর্ষা ও দীপ্তর মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দীপ্তর বাবা রামনাথ মুঠোফোনে বর্ষার স্বজনদের বলেন, বর্ষা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তাঁকে দেখার জন্য হাসপাতালে যেতে বলেন রামনাথ। রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন বর্ষার বাবা। এ সময় স্বামী দীপ্ত সেখানে ছিলেন না। তাঁর পরিবারের লোকজন বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছেন।

বর্ষার মা লক্ষ্মী রাজভর অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নানাভাবে তাঁর মেয়েকে নির্যাতন করতেন। সর্বষেষ পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন তাঁরা। টাকা না দেওয়ায় মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত পৌনে ১১টার দিকে দীপ্ত মৃত অবস্থায় থাকা বর্ষার লাশ হাসপাতালে রেখে যান। এটি হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ আছে।

জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বর্ষার কপালে ও গলার নিচে কালো দাগ আছে। গতকাল রাতেই হাসপাতাল চত্বর থেকে দীপ্তর বাবা রামনাথ রাজভরকে আটক করা হয়েছে। স্বামী-শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন ঘরে তালা মেরে পালিয়ে গেছেন। লাশ হাসপাতালের মর্গে আছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা বলা যাবে না। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন