default-image

মানসিক সমস্যা নিয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে প্রায় এক মাস ভর্তি ছিলেন আরবি খাতুন। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। স্বামী মফিজ উদ্দীন (৩৮) অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁদের ছেলে ইফাদ এবং আরবির ভাই আলীম হোসেন ও ইনসান আলী।

আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষে আরবিসহ একই পরিবারের চারজনের প্রাণ গেছে। নিহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক টিপু সুলতানও। তাঁদের লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আরবির মেজ ভাই ইনসান আলীকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর এক পা ভেঙে গেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন নড়াইলে লোহাগড়া উপজেলার মশাগুনি গ্রামের বাসিন্দা ও অ্যাম্বুলেন্সচালক টিপু সুলতান (৩৫), যশোর সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিন (৩৮), তাঁর স্ত্রী আরবি খাতুন (৩২), ছেলে ইফাদ (১৫) ও আরবির ছোট ভাই আলীম হোসেন (২৭)।

পুলিশ, হাসপাতাল ও পরিবার সূত্র জানায়, আরবি মানসিক রোগী ছিলেন। এক মাস ধরে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। লক্ষ্মীপুর এলাকায় সামনে থাকা একটি গাড়ি অতিক্রম করতে গিয়ে ডান দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন মারা যান। খবর পেয়ে সেখানে দ্রুত হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সদর থানা–পুলিশ যায়। তারা নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে নেয়। আহত ব্যক্তিকে একই হাসপাতালে ভর্তি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইনসানের অস্ত্রোপচার করানো হয়।

বিজ্ঞাপন
default-image

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নোয়া গাড়ি থেকে তৈরি করা অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে।
ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ির বাসিন্দা আফরোজা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, বিকট একটা শব্দ শুনে দৌড়ে রাস্তায় গিয়ে দেখতে পান, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর কয়েকজন রক্তে ভেজা অবস্থায় পড়ে আছেন। একজন কাতরাচ্ছিলেন। তাঁকে দ্রুত স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরবির খালাতো ভাই স্বপন হোসেন বলেন, ‘পাবনা মানসিক হাসপাতাল থেকে আরবিকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরছিল। তিনটার দিকে খবর পাই, তাদের পাঁচজন মারা গেছে। আমরা পরিবারের কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে যাচ্ছি।’

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুষ্টিয়া সার্কেল) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্সটি ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। বিএডিসির ট্রাকসহ অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাকের চালককে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সন্ধ্যায় হাসপাতালে যান কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সিরাজুল ইসলাম। তাঁরা আহতের খোঁজখবর নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মন্তব্য পড়ুন 0