চুয়াডাঙ্গার জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে উথলী গ্রাম। সেখানে গতকাল শনিবার হাসেনা বানুর বাড়িতে বসে কথা হয়। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন ছেলে আমিনুল ইসলাম। আমিনুল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন। এখানেই থাকেন হাসেনা বানু।

বড় ছেলে হামিদুর রহমান উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বাবার ব্যবসায় যোগ দেন। মেজ ছেলে হাসিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতকোত্তর পাস করে আশুলিয়ায় গড়েছেন কনস্ট্রাকশন ফার্ম ‘বিশ্বাস ইন্টারন্যাশনাল’। পর্যায়ক্রমে হালিকুর রহমান বিকম পাসের পর ১৯৯৭ সাল থেকে আমেরিকায় বসবাস ও গাড়ির ব্যবসা করছেন। সিদ্দিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর পাস করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। পঞ্চম ছেলে মখলেছুর রহমান কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ষষ্ঠ ছেলে হুমায়ুন কবীর খুলনা প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সপ্তম হারুন অর রশিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পাস করে ভাইয়ের কনস্ট্রাকশন ফার্মে কর্মরত। অষ্টম মামুন-অর-রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর পাস করে সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। নবম আমিনুল ইসলাম খুলনা বিএল কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ছোট ছেলে মোমিনুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি প্রকৌশলে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একমাত্র মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন ঢাকার লালমাটিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন, বর্তমানে গৃহিণী।

স্বামীর কথা স্মরণ করে হাসেনা বানু বলেন, ‘সে সময়ে মানুষের মধ্যে জমি-জায়গা কেনার ঝোঁক ছিল। তবে সেদিকে তাঁর আগ্রহ ছিল না । তিনি (স্বামী) বলতেন, জমি-জায়গা বেশি থাকলেও সন্তানদের খেয়াল সেদিকে যাবে, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকবে না।’

হাসেনা বানু আরও বলেন, ‘সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে হলে শুধু শাসন নয়, ভালোবাসাও দিতে হয়। সেই বিশ্বাস বুকে ধরে নানান সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি। সন্তানদেরও বাবা-মায়ের চোখের ও মনের ভাষা বুঝে চলতে জানতে হয়, যা আমার সন্তানেরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।’

ছেলে আমিনুল ইসলাম বলেন, মায়ের সময়োপযোগী নির্দেশনা সংসারে সুখ এসেছে। তাঁর কাজে সহযোগিতা করেছেন বড় ও মেজ ভাই।

সর্বশেষ কবে ১১ সন্তানকে একসঙ্গে পেয়েছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসেনা বানু বলেন, ১৯৯৭ সালে কোরবানির ঈদে সবাই বাড়িতে এসেছিল। মাঝেমধ্যে এক-দুজন করে বাড়ি আসে। আবার কবে সবাই একসঙ্গে হতে পারবেন, এমন আশায় দিন কাটে তাঁর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন