বিজ্ঞাপন

দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান লতিফ খানের কর্মী-সমর্থকেরা জহির রায়হানের পক্ষে যোগ দেন। অন্যদিকে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমানের কর্মী-সমর্থকেরা মোক্তার হোসেন খানের পক্ষে যোগ দেন। এরপর দুপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত ২টার দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।

রাতের সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে বাজার এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনেক ব্যবসায়ী ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় আজ তাঁদের দোকান খোলেননি।

হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, রোববার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার দুপুর ১২টার পরে প্রথমে তৌফিকুর রহমানের ৯ জন সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরপরই চেয়ারম্যান লতিফ খানের ৪ জন সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়া সবাই ইটপাটকেলের আঘাতে আহত।

হরিনাথপুর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রাতের সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে বাজার এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনেক ব্যবসায়ী ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় আজ তাঁদের দোকান খোলেননি। দুপক্ষের মধ্যে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় সংঘাত হতে পারে।

হরিনাথপুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় হরিনাথপুর বাজারে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা চলছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তৌফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক দলীয় কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এ সময় তাঁর (লতিফ) সমর্থকেরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। রাত ২টার দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

হরিনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুই সদস্য প্রার্থী মোক্তার হোসেন ও জহির রায়হানের মধ্যে ঝগড়ার জের ধরে তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ওই দুই প্রার্থী সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা। চেয়ারম্যান লতিফ খান ঘটনা ভিন্নদিকে নিতে এ ঘটনার সঙ্গে তাঁকে জড়াচ্ছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।

মোক্তার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা নিয়ে অনিয়ম করায় তিনি রোববার রাতে বর্তমান ইউপি সদস্য ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে তাঁর ওপর হামলা হলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম কুমার সিকদার বলেন, এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। মারামারির ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন