হেঁটে, ছোট যানে বাড়তি ভাড়ায় ঢাকাযাত্রা

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় কর্মস্থলগামী মানুষের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। শনিবার দুপুরে পাটুরিয়ার তিন নম্বর ঘাটে
ছবি: আবদুল মোমিন

শিল্পকারখানা খোলার খবরে মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকাগামী যাত্রীদের ঢল নেমেছে। শনিবার সকাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো যাত্রী এই মহাসড়ক হয়ে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ছুটছেন। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তাঁরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বাড়তি ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন ছোট বাহনে পথ ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

পুলিশ এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মালিকদের দাবির মুখে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে আগামীকাল রোববার থেকে তৈরি পোশাকসহ সব রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খবর শুনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন মানুষ।

সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ দেখা যায়। বাড়তি ভাড়া দিয়ে পাটুরিয়া ঘাট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, রিকশাভ্যান, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে করে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের অদূরে মানরা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নামছেন যাত্রীরা।

এরপর হেঁটে পুলিশের তল্লাশিচৌকি পার হয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসছেন। সেখানে যানবাহনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার পর বাড়তি ভাড়া দিয়ে ছোট বাহনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। বেশির ভাগ যাত্রীকে ট্রাক ও পিকআপে করে যাত্রা করতে দেখা গেছে।

শিশুসন্তানদের নিয়ে অনেক নারী পোশাকশ্রমিককে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে। এমনই একজন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক রাহেলা বেগম (৩০) বলেন, ঈদের আগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় গ্রামের বাড়ি যান। লকডাউনের কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় বাড়িতেই ছিলেন। রোববার থেকে কারখানা খোলার কথা শুনে কর্মস্থলে ফিরছেন। বিভিন্ন ছোট গাড়িতে কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আসেন তিনি।

ঢাকার সাভারে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সোহেল রানা (৩২)। স্ত্রী ও এক শিশুসন্তান নিয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থাকা সোহেল বলেন, ‘যত বিপদ আমাগো মতো কাজ করে খাওয়া মানুষের। বাড়ি থেকে এ পর্যন্ত (মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড) আসতে দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চাকরি বাঁচাতেই কষ্ট আর বাড়তি ভাড়া দিয়েই কারখানায় যাচ্ছি।’

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ফেরি থেকে নামেন কর্মস্থলমুখী মানুষ। দুপুরে পাটুরিয়ার তিন নম্বর ঘাটে
ছবি: প্রথম আলো

পিকআপ ভ্যানে করেও যাত্রীদের অনেককে গাদাগাদি করে ঢাকার দিকে যেতে দেখা যায়। বেলা ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছোট একটি পিকআপ ভ্যান সড়কে আসার পরই ৩৫-৪০ জন যাত্রী গাদাগাদি করে উঠে পড়েন।

বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, পরিবহনের কোনো ব্যবস্থা না করেই কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়তি ভাড়া দিয়ে পথ ভেঙে ভেঙে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। চাকরি বাঁচাতে তাঁরা মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া ও দুর্ভোগ সহ্য করেই কর্মস্থলে যাচ্ছেন। এক দিন বিধিনিষেধ শিথিল করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করলে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া ও কষ্ট করতে হতো না।

মানিকগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) আবুল হোসেন গাজী বলেন, আগামীকাল কারখানা খোলার কারণে শনিবার সকাল থেকে মহাসড়কে কর্মস্থলগামী যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ পড়েছে। ছোট ছোট বিভিন্ন বাহনে তাঁরা কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছেন। তবে পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকে করে যাত্রীদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না।