default-image

‘পদব্রজযাত্রা’ নামে কর্মসূচির সূচনা। সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি নিয়ে এ রকম পদযাত্রা হয় ২০১৮ ও ২০১৯ সালের বিজয় দিবসে। প্রথম যাত্রায় ৪৮ কিলোমিটার পথ তাঁরা হেঁটেছিলেন। গত বছর বিজয় দিবস সামনে রেখে ১৪ ডিসেম্বর ৪৯ কিলোমিটার পথ হাঁটেন।

সেই পদব্রজযাত্রার সমন্বয়ক কাজি সাহি এবার বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার পথ হাঁটবেন।

আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর দিন ভোরবেলা টুঙ্গিপাড়া থেকে হাঁটা শুরু করবেন কাজি সাহি। ৯৯ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ঢাকায় ফিরবেন। পরে এক কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির উদ্দেশে হাঁটা শুরু করবেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি সিলেট থেকে গতকাল সোমবার গোলাপগঞ্জে রওনা হয়েছেন।

কাজি সাহি বলেন, তিনি একজন সাইক্লিস্ট। সিলেট সাইকেল কমিউনিটির একজন সদস্য। এখন বেসরকারি একটি চাকরি করছেন। পড়াশোনা ও কাজের পাশাপাশি ঘুরে বেড়ানো আর সামাজিক কাজে বেশি ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন।

গত বছর বিজয় দিবস সামনে রেখে তাঁর নেতৃত্বে ‘সাইকেল ট্রাভেলারস অব সিলেট’ নামে সংগঠন করেন। সংগঠনের সাত সদস্যের সমন্বয়ে ৪৯ কিলোমিটার পদব্রজযাত্রা করেন সিলেট শহর থেকে ৪৯ কিলোমিটার দূরে বালাগঞ্জ উপজেলার আদিত্যপুর বধ্যভূমি এলাকায়।

সেই যাত্রায় সাক্ষাৎ পান জামাল উদ্দিনের। তিনি সিলেট শহরতলির লালমাটিয়া এলাকায় বধ্যভূমিটি ৩০ বছর ধরে বিজয় দিবসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ‘বিজয় নিশান’ ওড়ান। তাঁকে নিয়ে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় ‘স্মৃতি রক্ষায় তিনি বিজয় নিশান ওড়ান ৩০ বছর’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। পরে জামাল উদ্দিনকে নিয়ে কাজি সাহি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সংসদ ও উপজেলা প্রশাসনে বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য লিখিত আবেদন করেন।

গতকাল গোপালগঞ্জ যাত্রার প্রাক্কালে কাজি সাহি বলেন, এই যাত্রায় তিনি একাই পথ হাঁটবেন। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে তিনি ১০০ কিলোমিটার পথ হাঁটবেন। তিনি হাঁটার একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছেন। এই রোডম্যাপ অনুযায়ী ভোরে বঙ্গবন্ধুর সমাধি জিয়ারত করবেন। এরপর টুঙ্গিপাড়া শহরেই হাঁটবেন। টুঙ্গিপাড়া-গোপালগঞ্জ মহাসড়ক ধরে গোপালগঞ্জ পৌঁছে সেখান থেকে টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ সড়ক ধরে ঢাকা অভিমুখে এগোবেন। এই হাঁটার মধ্যে ৯৯ কিলোমিটার হলে যানবাহনযোগে ঢাকায় রওনা করে ধানমন্ডি পৌঁছাবেন। পরে সেখান থেকে এক কিলোমিটার আবার পায়ে হেঁটে ৩২ নম্বর বাড়িতে পৌঁছে সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে কর্মসূচি শেষ করবেন।

কাজি সাহি আরও বলেন, ‘১০০ কিলোমিটার পথ একা হাঁটা আসলেই বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু তার চেয়ে সহস্র গুণ কষ্টের কাজ করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। শেষ পর্যন্ত জীবনও দিয়েছেন। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে আমার এই ছোট্ট প্রচেষ্টা। তাই একাই পথ হাঁটব, শ্রদ্ধা জানাব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন