default-image

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে নাশকতার কর্মকাণ্ডে গানপাউডার ব্যবহার করা হয়েছে। এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে হেফাজতের কাঁধে ভর করে জামায়াত ও বিএনপি এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় এবার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হেফাজতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব পরিদর্শন শেষে আজ বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন মাহবুব উল আলম হানিফ। আজ তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি প্রতিনিধিদল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও এলাকা পরিদর্শন করছেন।

মতবিনিময়ের সময় স্থানীয় সাংসদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিমসহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬–২৮ মার্চ পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আপনাদের কাছে যা শুনলাম, তাতে মনে হলো পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ও হাটহাজারিতে যে তাণ্ডব হয়েছে, তা শুধু হেফাজতে ইসলামের নামে ধর্ম ব্যবসায়ী দলই না, এর সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত সম্পৃক্ত ছিল। এটা প্রমাণিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলে (শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায়) ছাত্রদলের ক্যাডার নয়ন ও অনু যে গুলি করেছে ও ফটকা ফুটিয়েছে, তা প্রমাণিত। এরা ছাত্রদলের। এটা প্রমাণ হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত মার্চ মাসের আগে থেকেই বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা তাঁদের বক্তব্যে উসকে দিয়েছিল যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আসতে দেওয়া হবে না। বাধা দেওয়া হবে। গতকালও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে সরকার পতন হয়ে যাবে। তারা এই যে আশা প্রকাশ করছে, সরকার পতন হয়ে যাবে। কিসের ওপর এবং কোন আশায় তারা এসব বলছে। বিএনপির সাংগঠনিকভাবে এমন তৎপরতা নেই যে সরকারকে অস্থিতিশীল বা বিব্রত করতে পারবে। তারা ভাবছে কেন যে সরকারের পতন হবে।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, তাদের (বিএনপি) নিজেদের এখন কোনো সক্ষমতা নেই। তারা ধর্ম ব্যবসায়ীর দল হেফাজত ও জামায়াত ইসলামের ওপর ভর করেছে। তারা ভর করেছে বলেই আজকে তারা এই ধরনের কথা বলছে।

মাহবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন, ‘সেদিন দেখলাম, বিএনপির এক নেত্রী বাসে আগুন দিয়ে সেই ভিডিও তার নেতাকে লন্ডনে পাঠাতে বলেছে। লন্ডন থেকে বসেই এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সারা বিশ্বসহ আমাদের কাছে অহংকার ও গৌরবের। এই সময়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে আলোচিত। সেই সময়ে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত মিলে এই কাজ করেছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে মাহবুব উল আলম হানিফের সঙ্গে দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক সাংসদ বেগম আয়েশা ওয়াসিকা খান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মঈন উদ্দিন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক আলামিনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন