default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব ঠেকাতে আওয়ামী লীগও ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জেলা কার্যকরী কমিটির ‘বহিষ্কৃত সদস্য’ মাহমুদুল হক ভূঁইয়া। আজ শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি স্বীকার করেন আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে ব্যর্থতার দায় তাঁরও আছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাহমুদুল হক ভূঁইয়া। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তবে মাহমুদুল হক ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, তিনি বহিষ্কারের কোনো চিঠি পাননি।

২৬–২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় মাহমুদুল হক ভূঁইয়া ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী জহিরুল হকের সমর্থকেরা জড়িত বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী অভিযোগ করেছেন। ২৯ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সংবাদ সম্মেলন করেন মাহমুদুল হক ভূঁইয়া। বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন হয়। তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৮ মার্চের নারকীয় ঘটনার জন্য আমাকে জড়িয়ে সাংসদ মোকতাদির চৌধুরী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হেফাজতের ডাকা হরতালে যে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড হয়েছে, এসবের সঙ্গে আমাকে জড়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার কর্মী–সমর্থকদের জড়িয়ে তিনটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও ব্যর্থতা ঢাকার কৌশল হিসেবে আমাকে দায়ী করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছে। কিন্তু তাণ্ডব ঠেকাতে জেলা আওয়ামী লীগ ব্যর্থ ছিল। সেই ব্যর্থতার দায় এড়াতেই বিগত পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। শুধু আমি কেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী কেউ এ রকম কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারে, সেটি আমি বিশ্বাস করতে পারি না।’ ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁকে ও তাঁর সমর্থকদের জড়িয়ে সাংসদ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

মাহমুদুল হক ভূঁইয়া আরও বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকতাদির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের নেতৃত্বে ২৭ মার্চ বিকেলে মিছিল হয়েছিল। সেই মিছিলের পেছন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রদের উসকানি দেওয়া হয়েছিল। ভিডিও ফুটেজগুলো ভালো করে পর্যালোচনা করলে দেখবেন, তাঁরা আওয়ামী লীগ নামধারী ছদ্মবেশী এবং অনুপ্রবেশকারী।

হেফাজতের তাণ্ডবের সঙ্গে বিএনপি-ছাত্রদল জড়িত উল্লেখ করে মাহমুদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘জেলা শহরের কান্দিপাড়া এবং শিমরাইলকান্দি বিএনপি-ছাত্রদল অধ্যুষিত এলাকা। বড় মাদ্রাসাটাও (জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা) ওই এলাকায় অবস্থিত। ঘটনার দিন আমার বাসার ফটকের ভেতর থেকে যা দেখার সুযোগ হয়েছে, তাতে আমার মনে হয়েছে হুজুরদের সঙ্গে কান্দিপাড়া-শিমরাইলকান্দির বহুসংখ্যক ছাত্রদলের উচ্ছৃঙ্খল যুবকেরা জড়িত। আমি নাম বলতে পারব না। কিন্তু ভিডিও ফুটেজ দেখলে তাঁদের চিহ্নিত করা যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে কৃষক লীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন দুলাল, আতাউর রহমান, সারোয়ার আলম, ফরিদ আহাম্মদ, নাজমুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন