default-image

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন একই গ্রামের চার ব্যক্তি। তাঁদের কেউ বালু তোলার কাজ করেন। আবার কেউ কৃষিশ্রমিক। কারও মাথায়, তো কারও গায়ে জখম। কিন্তু কী কারণে জখম হলেন তাঁরা, নিজেরাও কিছুই জানেন না। তাঁদের বাড়ি কুষ্টিয়া সদরের জিয়ারখী গ্রামে।

গতকাল রোববার বিকেলে ও আজ সোমবার সকালে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় জিয়ারখীর অন্তত ২০ জন বাসিন্দা আহত হয়েছেন। বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত।

পুলিশ, হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জিয়ারখী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক ও সাবেক সভাপতি আহসান সরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ ওঠে কয়েক দিন আগে আজিজুলের অনুসারী জিয়ারখী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। প্রতিপক্ষ আহসানের কয়েকজন অনুসারী ওই পোস্টে মামুনুল হকের পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁরা শরিফুল ইসলামকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যও করেন।

আহসান সরদারের এক ছেলে মোবাইলে (ফেসবুকে) লেখালেখি করে বকাবাদ্য করেছিল। কী লিখেছিল, সেটার কিছুই জানিনে। এই নিয়েই বিরোধ। গিরামের মানুষের কামকাজ না থাকলি এরম (মারামারি, লুটপাট) কাজই করে।
হাসান আলী, কুষ্টিয়া সদরের জিয়ারখী গ্রামের বাসিন্দা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দবির উদ্দীন (৪০) বালুমহালে শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ আজিজুল হকের লোকজন পথে মধ্যে জিয়ারখী মির্জাপাড়া এলাকায় তাঁর মোবাইল কেড়ে নিয়ে মারধর করে জখম করে। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি। কী কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে, সে ব্যাপারে কিছুই জানেন না। এমনকি গ্রাম থেকে কেউ দেখতেও আসেনি। আহসানের সমর্থক দবির উদ্দীন বলেন, ‘ফেসবুকে কী হয়েছে না হয়েছে, তার কিছুই জানিনে। আমি বাটন ফোন ব্যবহার করি।’

বিজ্ঞাপন

আজিজুল হক–সমর্থিত হাসান আলী (৪১) মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তিনি কৃষিকাজ করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, আজ সকালে বাড়িতেই ছিলেন। হঠাৎ আহসানপক্ষের লোকজন তাঁদের বাড়ির ওপর এসে হামলা করে। এতে তিনি আহত হন। হাসান আলী বলেন, ‘আহসান সরদারের এক ছেলে মোবাইলে (ফেসবুকে) লেখালেখি করে বকাবাদ্য করেছিল। কী লিখেছিল, সেটার কিছুই জানিনে। এই নিয়েই বিরোধ। গিরামের মানুষের কামকাজ না থাকলি এরম (মারামারি, লুটপাট) কাজই করে। আমরা তো মূর্খ মানুষ, বালু–মাটি কাইটি বেড়াই। কে কী লেখছে, কিছুই জানিনে।’

default-image

গতকাল বিকেলে এক দফা সংঘর্ষের পর আজ সকাল সাতটার দিকে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে সাইদুল ইসলাম (৪০) নামের একজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। আহত চারজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

একটি মারামারি মামলার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। একে অপরকে ঘায়েল করতে ওই ইস্যু (হেফাজত) নিয়ে এলাকায় গুজব ছড়ায়। এ ছাড়া অন্য কিছু না। দুই পক্ষই একই ধরনের রাজনীতি করে।
শওকত কবির, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কুষ্টিয়া মডেল থানা

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক বলেন, ‘আহসান সরদারের লোকজন হেফাজত নেতা মামুনুল হকের পক্ষ নিয়ে আমার লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।’

অন্যদিকে, আহসান সরদারের দাবি, ‘হেফাজত আখ্যা দিয়ে’ আজিজুল হকের লোকজন তাঁর লোকদের বাড়িঘরে হামলা করে। এতে তার পক্ষের ১০ থেকে ১৪ আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির প্রথম আলোকে বলেন, একটি মারামারি মামলার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। একে অপরকে ঘায়েল করতে ওই ইস্যু (হেফাজত) নিয়ে এলাকায় গুজব ছড়ায়। এ ছাড়া অন্য কিছু না। দুই পক্ষই একই ধরনের রাজনীতি করে।

ওসি আরও বলেন, গতকাল বিকেল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তারপরও তারা বর্বর আচরণ করছে। দুই পক্ষই এলাকার মাঠের মধ্যে দুই দিকে অবস্থান নিয়ে লুকিয়ে আছে। পুলিশ চলে এলে আবারও তারা কিছু একটা করতে পারে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন