default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনার বিচার চেয়ে দল থেকে পদত্যাগকারী হেফাজতের নেতা মুফতি আবদুর রহিম কাসেমীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে শহরের ভাদুঘর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আবদুর রহিম কাসেমী ২০১৬ সালে ও গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার ঘটনার ‘মূল হোতা’ এবং তাণ্ডবের ঘটনায় ‘প্রত্যক্ষভাবে জড়িত’ ছিল। সরকার উৎখাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাসহ আশপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র–শিক্ষককে নিয়ে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছেন।

আবদুর রহিম কাসেমী জেলা হেফাজতের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে এক লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬ থেকে ২৮ মার্চের সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে হেফাজত থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তিনি জেলার কান্দিপাড়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব ছিলেন। এর আগে গত বছরের ১ ডিসেম্বর তাঁকে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষাসচিবসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আজ মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আবদুর রহিম কাসেমীকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে উল্লেখ করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রইছ উদ্দিন বলেন, আজ বিকেল চারটার দিকে তাঁকে আটক করা হয়। সরকার উৎখাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আবদুর রহিম কাসেমীসহ তাঁর সমর্থকেরা সহিংসতায় অংশ নিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতের সহিংসতায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন আবদুর রহিম। তাঁকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

গতকাল সোমবার থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত আবদুর রহিম কাসেমীসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় হওয়া ৫৬ মামলায় মোট ৪১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন