বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গাছ রক্ষায় লাল কাপড়ের আচ্ছাদন দিয়ে গাছতলায় একটি প্রতিবাদ সভা হয়। গাছ রক্ষার আহ্বানে একাত্ম হয়ে প্রতিবাদসভায় বক্তব্য দেন সিলেটের ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দীন জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী, ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আশরাফুল কবীর, চৌহাট্টার বাসিন্দা আলমগীর চৌধুরী ও কামাল আহমদ চৌধুরী।

সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থলের চৌহাট্টার প্রধান সড়ক লাগোয়া রেইনট্রিগাছটি শতবর্ষী। স্থানীয় বাসিন্দারা ‘চৌহাট্টার বড় গাছ’ বলে ডাকেন।

প্রতিবাদসভায় বক্তারা বলেন, নগরে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নামে নির্বিচার বৃক্ষ হত্যার আয়োজন চলছে। চৌহাট্টার বড় গাছটি কেটে সেখানে ফুলবাগান করার কথা বলা হচ্ছে। অথচ গাছটি রেখেই কিন্তু ফুলবাগান করা সম্ভব। গাছ কেটে জায়গা বের করে অন্য কোনো ‘ধান্দা’ আছে বলে গাছ হত্যার আয়োজন চলছে।

চৌহাট্টার স্থায়ী বাসিন্দা আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘আমার বয়স ৬১ বছর। এই গাছ আমি ছোটবেলায় ঠিক এইভাবেই দেখেছি। গাছটি শতবর্ষী। এ রকম একটি গাছ যদি কেটে সেখানে ফুলবাগান না শত গাছের বাগানও করা হয়, তবু এই গাছটির বিকল্প হবে না। গাছের গায়ে সাঁটানো লাল কাপড়ে যে আহ্বান, সেটার সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। গাছটি রক্ষা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’

এলাকাবাসীকে নিয়ে পরিবেশবাদীদের এ প্রতিবাদে একাত্ম হন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রতিনিধিরাও। বেলা সিলেটের সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, ‘চৌহাট্টার এই গাছসহ নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় ৩০০ গাছ নির্বিচার কেটে ফেলা হয়েছে। গাছ কাটা থেকে বিরত থাকতে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে আমরা একটি চিঠি দিয়েছি।’

জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের পাশে বড় পরিসরের ফুটপাত ও বাগান নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে গাছটি কাটা হচ্ছিল। তবে প্রতিবাদ হওয়ায় মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে আপাতত সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গাছটি অপরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছিল। বড় গাছ হওয়ায় ব্যস্ত রাস্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা এই গাছ কেটে সেখানে বাগান করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের নিয়ে গাছ কাটার বিকল্প কী হতে পারে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

গাছ রক্ষায় গণশুনানি ১৩ নভেম্বর

চৌহাট্টার শতবর্ষী গাছসহ নগরীর শাহজালাল উপশহর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মিরের ময়দান ও বেতার বাংলাদেশ কার্যালয় প্রাঙ্গণে গাছ কাটাসহ গত এক দশকে নগরীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দুই হাজার গাছ কাটা হয়েছে বলে পরিবেশবাদী সংগঠন দাবি করছে। গাছ বাঁচিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও গাছ কাটা প্রবণতা বন্ধে গণশুনানি করবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। ১৩ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ গণশুনানি হবে।

আজ দুপুরে চৌহাট্টার গাছের গায়ে লাল কাপড় টাঙানো কর্মসূচিতে বাপা ও ভূমিসন্তান বাংলাদেশ যৌথভাবে গণশুনানি করার ঘোষণা দেয়। গণশুনানির আয়োজক সংগঠন দুটোর পক্ষ থেকে আবদুল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গাছ রক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য বড় পরিসরে গণশুনানি হবে। এতে গাছ কাটায় নিয়োজিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, গাছের সুরক্ষার প্রতিষ্ঠান ও নগর পরিকল্পনাবিদসহ পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের উপস্থিত রাখার চেষ্টা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন