১০৪ দিন মাছ ধরা বন্ধ, খাদ্যসহায়তা অপ্রতুল

নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৩ হাজার। কিন্তু প্রথম ধাপে মাত্র ১ হাজার ৯০০ জন চালের বরাদ্দ পেয়েছেন।

সুন্দরবনের নদ-নদীতে ১০৪ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের নদ-নদীতে ৯২ দিনের জন্য কাঁকড়া ধরার পাশাপাশি পর্যটক ঢোকাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন নিবন্ধিত ২৩ হাজার জেলের মধ্যে সরকারি খাদ্যসহায়তার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ৮ হাজার ৩২৩ জন জেলেকে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে খাদ্যসহায়তা পাচ্ছেন মাত্র ১ হাজার ৯০০ জন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় সহায়তার বাইরে থাকা নিবন্ধিত জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপনের আশঙ্কা করছেন।

একই সময় সুন্দরবনের ভারতের অংশের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ না থাকায় যে উদ্দেশ্যে মাছ ও কাঁকড়া ধরা বন্ধ করা হচ্ছে, তা সফল হবে না বলে জেলেদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, এ সুযোগে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমানায় ঢুকে ইচ্ছেমতো মাছ ধরে নিয়ে যাবে।

সাতক্ষীরা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাছের প্রজনন মৌসুমের জন্য সাগরে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সব প্রকার মাছ ধরা বন্ধ রাখার হয়েছে। তারাই অংশ হিসেবে এই সময়ে সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একইভাবে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ ধরা, কাঁকড়া ধরা ও পর্যটক ঢোকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সুন্দরবনসংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল্লাহ গাজী ও রহমত আলী গাজী বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে অধিকাংশের জীবিকাই মাছ ও কাঁকড়া ধরা এবং মধু সংগ্রহ করা। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনের সম্পদ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া ১০৪ দিন সরকারিভাবে প্রতি বছর মাছ ও কাঁকড়া ধরা বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা বেকার হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করেন। খাদ্যসহায়তার কথা বলা হলেও গত বছর মাত্র ১ হাজার ৯০০ জন জেলেকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। এ বছরও ওই সংখ্যকই সহায়তা পাচ্ছেন।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম এম হাসান বলেন, মৎস্য বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে মাছের প্রজনন মৌসুম হিসেবে গত শুক্রবার থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সুন্দরবনের নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেই অনুযায়ী গতকাল থেকে বন বিভাগ মাছ ধরা বন্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে।

জানতে চাইলে শ্যামনগর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, সুন্দরবন এলাকার সাতক্ষীরা রেঞ্জে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৩ হাজার। এর মধ্যে যাঁদের সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরা ছাড়া অন্য কোনো পেশা নেই, এমন ৮ হাজার ২২৩ জনের তালিকা তৈরি করে খাদ্যসহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রথম ধাপে মাত্র ১ হাজার ৯০০ জনের নামে ৮৬ কেজি করে চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে যাতে তালিকাভুক্ত ৮ হাজার ২২৩ জন জেলেই ৩০-৪০ কেজি করে চাল সহায়তা পান, তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।