বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমা আক্তারের বাড়ি জেলা শহরের আটুয়া হাউজপাড়া মহল্লায়। তাঁর স্বামী বেশ কিছুদিন আগে মারা গেছেন। তিনি সব সময় ধর্মের কথা বলতেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি টাকা লগ্নির বিশাল ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন। ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক গরু-ছাগলের খামার ও বৈধ ব্যবসার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেন তিনি। হালাল ব্যবসা শুনে মানুষ তাঁর কাছে টাকা লগ্নি করতেন। একজন গ্রাহক প্রথম দিকে অল্প টাকা দিয়ে শুরু করলে তাঁকে তিনি বেশি লাভ দিতেন। পরে ওই গ্রাহক লোভে পড়ে বেশি টাকা লগ্নি করতেন। এভাবেই শিক্ষক সীমা আক্তার গ্রাহকের প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে এক মাস আগে আত্মগোপন করেছিলেন।

পুলিশ জানায়, শতাধিক লগ্নিকারী গ্রাহক সীমা আক্তারকে খুঁজে না পেয়ে থানায় অভিযোগ করতে থাকেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা পুলিশ তাঁকে খুঁজতে মাঠে নামে। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি নিজ বাড়িতে ফেরেন। খবর পেয়ে টাকা লগ্নিকারীরা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত সীমাকে আটক করে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আত্মগোপনের পর থেকেই সীমা আক্তারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ আসছিল। পরে তাঁকে আটক করা হলে তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। আজ সকালে তাঁর বিরুদ্ধে শিল্পী খাতুন নামের এক গ্রাহক প্রতারণার মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আটকের সময় সীমা আক্তার বলেন, ‘মানুষ স্বেচ্ছায় আমাকে টাকা দিয়েছে। আমি একজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অন্যজনকে দিয়েছি। টাকার প্রচুর লাভ দিয়েছি। তবে কারও টাকা আত্মসাৎ করিনি। হিসাব করে দেখেছি, গ্রাহকের তিন কোটি টাকা আমার কাছে পাওনা আছে। আমি তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দেব।’

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আক্তার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই তাঁকে স্কুল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। তিনি তাঁদের কত টাকা নিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন