বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কামরুল হাসান বলেন, ‘সেদিন অফিসে দুজন অফিস সহকারী ছাড়া কেউ ছিলেন না। তাহলে সবাইকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হোক। এ কথা বলার কারণে নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তেজিত হয়ে বলেন, কারও নামেই নোটিশ হবে না, শুধু আপনার নামেই হবে।’ এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি তালিমুল ইসলামের কাছে তাঁর কাজ বুঝে চাইলে তালিমুল তাঁকে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নাকি বলেছেন তাঁকে শুধু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা  পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হবে। কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। তিনি তাঁকে কাজ না দিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন।

নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে উপসহকারী প্রকৌশলী সুকেশ কুমার, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিফাত করিম, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ওবায়দুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রশিদ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তালিমুল ইসলাম আমাকে জাপটে ধরে চড়-থাপ্পড়, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে আমি মেঝেতে পড়ে গেলে সুকেশ হাঁটু দিয়ে আমার গলা চেপে ধরে গায়ের ওপর বসে থাকেন। নির্বাহী প্রকৌশলী তখন তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাথি দিতে থাকেন। অন্যরা তাঁকে উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন।
কামরুল হাসান, পাউবোর ভুক্তভোগী কর্মচারী

গালাগালি শুনে নির্বাহী প্রকৌশলী দুজনকেই তাঁর কক্ষে ডাকেন। সেখানে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁকে আরও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। প্রতিবাদ করলে প্রকৌশলী তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

পরিস্থিতি এ রকম দেখে কামরুল হাসান মুঠোফোনে অডিও রেকর্ড শুরু করেন। এটি দেখতে পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর ফোন কেড়ে নেন এবং আরও বেশি মারধর শুরু করেন। তাঁর নির্দেশে উপসহকারী প্রকৌশলী সুকেশ কুমার, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিফাত করিম, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ওবায়দুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রশিদ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তালিমুল ইসলাম তাঁকে জাপটে ধরে চড়-থাপ্পড়, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মেঝেতে পড়ে গেলে সুকেশ হাঁটু দিয়ে তাঁর গলা চেপে ধরে গায়ের ওপর বসে থাকেন। এভাবে তিনি শ্বাস রোধ করে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেন এবং রিফাত করিম হাতের ওপর পা চাপিয়ে রাখেন। নির্বাহী প্রকৌশলী তখন তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাথি দিতে থাকেন। অন্যরা তাঁকে উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন।

এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এরপর তাঁকে তাঁর শাখায় যেতে দেওয়া হয়। তবে তিনি যাতে বাইরে যেতে না পারেন, তার জন্য তাঁকে দেখে রাখার নির্দেশ দেন নির্বাহী প্রকৌশলী। ওই সময় মুঠোফোনের রেকর্ড ডিলিট করতে পাসওয়ার্ড বলার জন্য তাঁকে তাঁরা চাপ দিতে থাকেন। তিনি পাসওয়ার্ড না দেওয়ায় সুকেশ নির্বাহী প্রকৌশলীকে পরামর্শ দেন যে তাঁর বিরুদ্ধে চারটি ফাইল চুরির যেন মামলা করা হয়। এ কারণে পুলিশ ডাকতে হবে। তাঁদের ফোনে বেলা আড়াইটার দিকে নগরের বোয়ালিয়া উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ অফিসে আসেন। এরপর পুলিশের ফোন থেকে বাড়িতে ফোন করে কামরুল হাসান তাঁর স্ত্রী কুমকুম ইয়ারাকে ঘটনা জানান। এসআই তখন অফিশিয়াল ব্যাপার মীমাংসা করে নেওয়ার কথা বলে চলে আসেন।

কামরুল থানায় যে অভিযোগ দিয়েছেন, তা ‍মিথ্যা ও মনগড়া। ২৬ ডিসেম্বর এখানে যোগদানের পর থেকে তিনি সবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এর আগে ঢাকাতে থাকার সময় তিনি অসদাচরণ করেছেন। এ কারণে তাঁকে শাস্তিস্বরূপ পদাবনতি করা হয়।
রিফাত করিম, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, রাজশাহী পাউবো

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্ত্রী কুমকুম ইয়ারা কামরুল হাসানকে আটকে রাখার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও কেউ কথা বলেননি। তাঁকে ছাড়াও হয়নি। পরে তাঁর স্ত্রী বোয়ালিয়া থানায় যান। এরপর রাত সাড়ে ১০টার পরে বোয়ালিয়া থানা-পুলিশের একটি দল কামরুল হাসানকে অফিস থেকে উদ্ধার করে আমার আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় হস্তান্তর করে। তাঁর মুঠোফোনটি পুলিশের হেফাজতেই আছে। ছাড়া পেয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

এদিকে আজ বিকেলে রাজশাহী পাউবো কার্যালয়ের সামনে কয়েক দিন আগে রাজশাহীতে যোগদান করা ওই কর্মচারীর শাস্তি চেয়ে মিছিল করেছেন সিবিএ নেতারা।

এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। আজ বেলা দেড়টার দিকে পাউবো কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ সময় মাসুমা ফেরদৌস নামের এক কর্মচারী বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী চাঁপাইনবাবগঞ্জে গেছেন। আগের দিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিফাত করিম প্রথম আলোকে বলেন, কামরুল থানায় যে অভিযোগ দিয়েছেন, তা ‍মিথ্যা ও মনগড়া। ২৬ ডিসেম্বর এখানে যোগদানের পর থেকে তিনি সবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এর আগে ঢাকাতে থাকার সময় তিনি অসদাচরণ করেছেন। এ কারণে তাঁকে শাস্তিস্বরূপ পদাবনতি করা হয়। নীলফামারীর ডালিয়াতেও অনেকের সঙ্গে ঝামেলা করেন। পরে রাজশাহীতে এসে বিভিন্নজনের সঙ্গে ঝামেলা করেন। ফাইলপত্রও গায়েব করেন। গতকাল তাঁর অসদাচরণের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ জানানো হয়। সেখানে নির্বাহী প্রকৌশলী বোঝানোর পরও একই আচরণ কর্মচারীদের সঙ্গে করেন। পরে আবার ওই কর্মচারী নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে গায়ে হাত তোলেন। পরে তাঁরাই পুলিশকে ফোন দিয়ে ডাকেন। এ বিষয়ে তাঁরাও গতকাল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

অফিস সহকারী তালিমুল দাবি করেন, অফিসে কী হয়েছে, সেটা তিনি জানেনই না।

জানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘কামরুল অভিযোগ দিয়েছেন দুপুরে। তার আগে রাতেই নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ দিয়েছেন। তাতে বুঝেছি, দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।’ ওসি জানান, ‘কামরুলের মোবাইল ফোন জব্দ আছে। সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো রেকর্ডিং যদি থেকেই থাকে, তাহলে তা ঘটনাটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে। এটা তদন্তের ব্যাপার।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন