default-image

১০ দিন বন্ধ থাকার পর মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথে আজ সোমবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছিল। দুই ঘাট থেকে মাত্র চারটি ফেরি ছাড়ার পর আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মা সেতুর চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলছিল। তাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে ফেরি বন্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল ৭টা থেকে পদ্মা সেতুর কাজে ব্যবহৃত চ্যানেল দিয়ে সীমিত আকারে পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল শুরু করেছিল। মাত্র চারটি ছোট ফেরি চালানো হচ্ছিল। এরপরই সেতু কর্তৃপক্ষ তাদের চ্যানেলে ফেরি চালাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাই আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূল সেতুর চ্যানেল দিয়ে জাজিরা হয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছিলাম। অথচ ফেরি কর্তৃপক্ষ সে চ্যানেল বাদ দিয়ে ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের চ্যানেল দিয়ে ফেরি চালানো শুরু করে। এ চ্যানেল দিয়ে সেতুর কাজের মালামাল বহন করা হয়। এ চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলায় সকালেই ৭ নম্বর টাওয়ারের কাছে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এ কারণে ফেরি চালাতে নিষেধ করা হয়েছে।’

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল উদ্দিন বলেন, কয়েকটি ফেরি চলছিল। সেগুলো দিয়ে গাড়ি পার করা হয়। ঘাট এখন সুনসান। কোনো গাড়ি নেই।

ঘাট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তীব্র স্রোত ও নাব্যতা–সংকটে তিন মাস ধরে এই নৌপথে ফেরি চলাচল ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত আগস্ট মাসে মাঝেমধ্যেই রাতে বন্ধ রেখে দিনে ফেরি চালানো হতো। প্রতিদিন মাত্র ৪-৫টি ছোট ফেরি চলাচল করত। সংকট তীব্র আকার ধারণ করে সেপ্টেম্বরে। এই মাসে পাঁচ দফায় ১৭ দিন ফেরি বন্ধ ছিল এবং চলতি মাসের তিন দফায় ১২ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ আছে। সর্বশেষ ১৫ অক্টোবর সকালে ছোট ৪-৫টি ফেরি চলছিল। সেদিন দুপুরের দিকে আবারও নাব্যতা–সংকট দেখা দেয়। ফলে সেদিন বিকেল থেকে রোববার পর্যন্ত টানা ১০ দিন ফেরি বন্ধ ছিল। এবার বর্ষা মৌসুম থেকে এই নৌপথের যে দুরবস্থা শুরু হয়েছে, সেটা কোনোভাবেই কাটছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0