বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বনের ভেতরে বিভিন্ন প্রাণী সংরক্ষণের জন্য ইটের প্রাচীর ও লোহার গ্রিল দিয়ে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। এর ভেতরে চিতা বাঘ, হরিণ, শূকর, অজগর, কুমির, বানরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী অবমুক্ত করা হয়। এ ছাড়া পর্যটকদের জন্য বনভোজনের স্থান, চলাচলের জন্য বনের ভেতরে ছোট ছোট খালের ওপর ১৬টি কাঠের সেতু, ৪টি গভীর নলকূপ, ৪টি শৌচাগার, ৪টি বিশ্রামাগারসহ ইটের সাড়ে ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর তিন-চার বছর পার্কটি ভালোভাবেই চলেছে। ২০১৬ সালে থেকে এটি বেহাল হতে শুরু করে। বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে পার্কের প্রবেশদ্বারে একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ চলছে।

পার্কের ভেতরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য চারটি গভীর নলকূপ রয়েছে। গত শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, সব নলকূপই অকেজো। দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্মিত তিনটি শৌচাগার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বনের ভেতরে দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য সকিনা খাল থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এই সড়কের বেশির ভাগ স্থানে ইট উঠে গেছে। বন্য প্রাণীদের থাকার স্থানের চারপাশে নির্মিত লোহার গ্রিলে মরিচা ধরেছে। এর অনেক জায়গায় তা ভেঙে গেছে। দেয়ালের পলেস্তারাও খসে পড়েছে।

স্বরূপকাঠি থেকে বেড়াতে আসা কামরুল কবির বলেন, পার্কের ভেতরে পরিবেশ খুবই বেহাল। হাঁটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শৌচাগার বেহাল। অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে পর্যটনকেন্দ্রটি পর্যটকদের আগ্রহ হারাচ্ছে।

সুমন সিকদার নামের আরেক পর্যটক বলেন, ইকোপার্কটির অবস্থা খুব বেহাল। এখানে বন্য প্রাণীদের জন্য নির্মিত বেষ্টনী নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি বেষ্টনীর দেয়াল হেলে পড়েছে। বন্য প্রাণীগুলোকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না। এখানে একটি হরিণের অবস্থা খুব খারাপ।

টেংরাগিরি ইকোপার্ক সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাসে ৮০০-৯০০ দর্শনার্থী পার্কে এসেছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে, অর্থাৎ ২০২০ সালের আগে গড়ে প্রতি মাসে দেড় হাজার

দর্শনার্থী আসতেন। ইকোপার্কের দায়িত্বে থাকা সখিনা বিটের বিট কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। শৌচাগার, বিশ্রামাগার নির্মাণের সময় হয়তো লবণাক্ত পানি ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে এই স্থাপনাগুলো ভেঙে পড়েছে।

এলজিইডির বরগুনা কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী হোসাইন আলী মীর বলেন, পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য সখিনা খালের ওপর ইকোপার্কের প্রবেশদ্বারে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। সেখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করে সিঁড়ি তৈরি করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন