বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যশোরের অভয়নগর উপজেলা আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। নদটি উপজেলাটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। ভৈরব নদের উত্তর-পূর্ব পাড়ে একটি পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে চারটি ইউনিয়ন অবস্থিত। নদের উত্তর-পূর্ব অংশের চারটি ইউনিয়নের মানুষ নৌকায় করে নদ পার হয়ে উপজেলা সদর নওয়াপাড়ায় যাতায়াত করত। দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সহজতর করার জন্য ভৈরব নদের ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়।

ভৈরব নদের পশ্চিম পাড়ে নওয়াপাড়া পৌরসভার মশরহাটি গ্রাম। আর পূর্ব পাড়ে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের দেয়াপাড়া গ্রাম। পূর্ব ও পশ্চিম বরাবর সেতুটি মশরহাটি ও দেয়াপাড়া গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্ব অংশে সেতু থেকে প্রায় ৩৫০ ফুট দূরে সংযোগ সড়কের বাম দিকে প্রায় ৯০ ফুট এলাকাজুড়ে প্রতিরক্ষা দেয়ালের ব্লক ধসে পড়েছে। ওই অংশে আরও প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে ব্লক ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সেতু থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরে সংযোগ সড়ক ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের মধ্যে প্রায় ১০০ ফুট এলাকাজুড়ে লম্বা ফাটল দেখা দিয়েছে। সংযোগ সড়কের ডান দিকে প্রতিরক্ষা দেয়াল উঁচু–নিচু হয়ে আছে। কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষা দেয়ালের ব্লক দেবে গেছে। এ ছাড়া সংযোগ সড়ক ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের মধ্যে দেখা দেওয়া লম্বা ফাটল সেতুর প্রায় ১৫০ ফুটের মধ্যে চলে এসেছে। প্রতিরক্ষা দেয়ালের নিচের দিকে পানিনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ২৫টি বাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের প্রতিরক্ষা দেয়ালের নিচের দিকে পানিনিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন করা হয়নি। এ কারণে বৃষ্টির পানি সেতুর ওপর দিয়ে পড়ে গড়িয়ে নিচে পড়ছে। নিষ্কাশিত না হওয়ায় ওই পানিতে প্রায় ২৫টি বাড়ি তলিয়ে গেছে।

দেয়াপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কের প্রতিরক্ষা দেয়াল একেবারেই খাড়া করে করা হয়েছে। বৃষ্টিতে এখন অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছে। দেয়াল থেকে ব্লক ধসে পড়ছে। এ ছাড়া সংযোগ সড়ক ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের মধ্যে লম্বা ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল সেতুর প্রায় নিকটে চলে এসেছে। নিচের মাটি সরে গেলে সংযোগ সড়কটি ধসে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে মূল সেতুটি।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য এলজিইডির যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম আনিসুজ্জামানের দাপ্তরিক মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হয়। তবে তিনি কল ধরেননি। এলজিইডির অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার বসু বলেন, ওই এলাকায় বালুর পরিমাণ বেশি। এ জন্য ভারী বৃষ্টিতে সংযোগ সড়কের প্রতিরক্ষা দেয়ালের প্রায় ৭০ ফুট এলাকায় ব্লক ধসে পড়েছে। সংযোগ সড়ক ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, বড় সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (এলবিসি) প্রকল্প পরিচালক এবং ডিজাইন বিভাগের প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে। ডিজাইন বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন