বিজ্ঞাপন

কারা সূত্র জানায়, ১ হাজার ৮৫৩ বন্দী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে বন্দী আছেন সাড়ে সাত হাজার। এ ছাড়া কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের কোনো বন্দী অসুস্থ হলে তাঁকে চট্টগ্রাম কারা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ১০০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে দুজন করে চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা নার্স রয়েছেন।

চট্টগ্রাম কারা হাসপাতালের চিকিৎসক শামীম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, ল্যাব থাকলেও প্যাথলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নেই। ল্যাবে যেসব যন্ত্রপাতি আছে, সেগুলো বাইরের একজন টেকনিশিয়ানকে দেখানো হলে তিনি জানান, এগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যবহারের অযোগ্য। এক্স-রে যন্ত্রটিরও একই অবস্থা। এটি বসানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। এখন হাসপাতালে শুধু ডায়াবেটিস ও ইসিজি পরীক্ষা করা হয়।

শামীম রেজা আরও বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধের জন্য বন্দীদের বাইরের হাসপাতালে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ। যন্ত্রপাতিগুলো সচল করে কারা হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে বন্দীরা উপকৃত হতেন। বিশেষ করে করোনার সময়ে সহজে বন্দীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হতো। এখন কোনো বন্দীকে বাইরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও তাঁকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখতে হচ্ছে।

মুক্তি পাওয়া বন্দীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ অসুস্থ হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু করোনার কারণে বাইরের হাসপাতালে যাওয়া ঝুঁকির। এ কারণে অনেক বন্দী বাইরে হাসপাতালে যেতে চান না।

কারা সূত্র জানায়, হাসপাতালে গড়ে শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রাথমিক চিকিৎসা নেন অর্ধশতাধিক। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গড়ে পাঠানো হয় ১০ জনের বেশি বন্দীকে। আর কাউকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এ ছাড়া একজন বন্দীকে কারাগার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে একজনের সঙ্গে তিনজন কারারক্ষীকে পাঠাতে হয়। কারাগারে রয়েছে কারারক্ষী-সংকটও। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বন্দীদের জন্য আলাদা প্রিজন অ্যানেক্স না থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন বন্দী রোগীরা। তাঁদের আলাদাভাবে পাহারায় থাকতে হয় কারারক্ষীদের। প্রিজন অ্যানেক্স থাকলে একটি কক্ষের ভেতর বন্দীরা থাকতে পারতেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, এক্স-রে মেশিনসহ ল্যাবের যন্ত্রপাতি লোকবলসংকটে বাক্সবন্দী হয়ে আছে। এগুলো চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারা হাসপাতালের লোকবলসংকট দূর করতে আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থায় কাজ চালানোর চেষ্টা রয়েছে। করোনার কারণে তা থেমে আছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাক্সবন্দী যন্ত্রপাতিগুলো কতটুকু সচল আছে, যাচাই-বাছাই করা হবে।

হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ বন্দীরা ভোগান্তিতে পড়েন বলে জানান বেসরকারি কারাপরিদর্শক আজিজুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুধু লোকবল নিয়োগের সিদ্ধান্তহীনতায় সরকারের টাকায় কেনা যন্ত্রপাতি এভাবে নষ্ট হওয়া দুঃখজনক।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন