বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলজিইডি লালমনিরহাট জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সড়কে লোহার ব্যারিকেড ও অপ্রশস্ত সংযোগ থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, সেতুর দুই পাশে প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক ও বাস চলাচলের উপযোগী নয়। সেতুর দুই দিকের সংযোগ সড়ক মেরামত না করে ভারী যানবাহন চলাচল করলে সড়ক ভেঙে পড়বে। তাই ব্যারিকেডটিও এখনো রয়ে গেছে।

আশরাফ আলী খান আরও বলেন, চার মাস আগে ঢাকা থেকে একটি পর্যবেক্ষক দল এসে দেখে বলেছে, সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক আরও প্রশস্ত ও মজবুত করে নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু কবে নাগাদ এই সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হবে, তা জানা যায়নি।

আমদানিকারক ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের ভাষ্য, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ট্রাক এখনো লালমনিহাট জেলা সদর ঘুরে রংপুরের কাউনিয়া দিয়ে চলাচল করছে। এতে ৫০ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হচ্ছে। রংপুর থেকে লালমনিরহাট শহর হয়ে বুড়িমারীর দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার।

৮৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি রংপুর-বুড়িমারী আঞ্চলিক সড়কের গঙ্গাচড়ায় পড়েছে। এটি ব্যবহার করা গেলে দূরত্ব ও ভাড়া কমত, সাশ্রয় হতো সময়।

ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন সেতুটি উদ্বোধনের পর ব্যবসায়ীদের অনেক আশা ছিল, কম সময় ও কম খরচে সেতুটির ওপর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক-বাস চলাচল করবে। লালমনিরহাট হয়ে রংপুর আসতে ট্রাকপ্রতি ভাড়া পড়ে ১৫-১৬ হাজার টাকা। সেখানে নতুন এই সেতুর ওপর দিয়ে ভাড়া পড়ত ৯-১০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া অনেক কম সময়ে বাসে করে মানুষ রংপুরের সঙ্গে লালমনিহাটের বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াত করতে পারত। কিন্তু শেখ হাসিনা সেতুর উত্তর প্রান্তে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্রেশ্বর এলাকায় সংযোগ সড়কে লৌহদণ্ডের একটি ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এতে তিন বছর ধরে কোনো বাস-ট্রাক চলাচল করতে পারছে না। সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে দেওয়া ওই ব্যারিকেডের নিচ দিয়ে ছোটখাটো পিকআপ চলাচল করতে পারে।

রংপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সেতু করার উদ্দেশ্যই হলো কম সময় ও কম দূরত্বে বাস-ট্রাক চলাচল করবে। কিন্তু তা এখনো হয়ে ওঠেনি। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বুড়িমারী থেকে প্রায় ৪০০ পণ্যবাহী ট্রাক ও ৫০টি যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। সংযোগ সড়কটি দ্রুত ঠিক করার দাবি জানান তিনি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বলেন, ‘আমি মনে করি সুচিন্তিত পরিকল্পনা, যথাযথ বাস্তবায়ন, নাগরিক সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে যথাসময়ে কাজটি সম্পন্ন করা উচিত। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তদারকি জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যত দ্রুত সম্ভব কাজটি সম্পন্ন করে জনসাধারণের সুবিধার জন্য সকল ধরনের পরিবহন চালু করা দরকার।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন