বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৮৮৫ সাল। কুমিল্লা শহরের ছেলেমেয়েদের জ্ঞান অন্বেষণের জন্য ছিল না কোনো ধরনের পাঠাগার। তখন কয়েকজন জ্ঞানপিপাসু শিক্ষানুরাগী পাঠাগার করার জন্য উদ্যোগ নেন। ওই সময়ে জেলা প্রশাসক ছিলেন এফ এইচ স্ক্রাইন। তাঁর কাছে যান উদ্যোক্তারা। জেলা প্রশাসক ওই প্রস্তাবে সায় দেন। তিনিই তত্কালীন ত্রিপুরা জেলার চাকলা রোশনাবাদের জমিদার নরেশ মহারাজ ‘বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুর’–এর কাছে জমি চান। বীরচন্দ্র টাউন হলের জন্য ১০ বিঘা জমি দেন। একই সঙ্গে একটি ভবন নিজস্ব অর্থায়নে করে দেন। এরপর এর নামকরণ করা হয় বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন, যা পরবর্তী সময়ে কুমিল্লা টাউন হল নামে সব মহলেই পরিচিত।

টাউন হলে রয়েছে জ্ঞানচর্চার জন্য পাঠাগার ও অনুষ্ঠান করার জন্য মিলনায়তন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বই ও পত্রিকা পড়তে আসেন। মিলনায়তনজুড়ে হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই বেশি হয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মিলনায়তনে আসনসংখ্যা ৪৭২।

কান্দিরপাড়ের প্রধান সড়কের উত্তর পাশে বিস্তীর্ণ মাঠ পেরিয়ে টাউন হল মিলনায়তন। দক্ষিণমুখী এই ভবনের নিচতলায় পশ্চিম পাশে মিলনায়তন। পুব পাশে পত্রিকা পড়ার জায়গা। এখানে ৪৪টি জাতীয়, স্থানীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক ম্যাগাজিন পড়ার ব্যবস্থা আছে। ভেতরে উত্তর পাশে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। এই কর্নারে আছে সাত বীরশ্রেষ্ঠ, কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ফটো গ্যালারি। কর্নারের পশ্চিম পাশে সম্মেলনকক্ষ। সিঁড়ি পেরিয়ে দোতলায় নামাজের জায়গা ও একাংশে মিলনায়তনের আসন। উত্তর পাশে বড় পরিসরে সারি সারি ৬৩টি আলমারি ও পড়ার জায়গা। এতে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, ত্রিপুরা ও তার রাজবংশের ইতিহাস রাজমালা থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ও ধর্মীয় মনীষীদের রচনাসমগ্র রয়েছে। এখানে বাংলা ভাষার ২৪ হাজার বই, ইংরেজি ভাষার ৬ হাজার বইসহ মোট ৩০ হাজার বই রয়েছে। এর বাইরে বর্তমান সময়ের লেখকদের নানা ধরনের গ্রন্থ, উপন্যাস ও কবিতার বইও শোভা পাচ্ছে। দুর্লভ বইগুলো পাঠাগারের চেয়ার–টেবিলে বসে পড়া যায়। অন্যান্য বই কেবল সদস্যরা পড়ার জন্য সর্বোচ্চ তিনটি করে এক সপ্তাহ বাড়ি রেখে পড়তে পারেন। পুরোনো পত্রিকার সংখ্যাও এখানে দেখতে পাওয়া যাবে।

স্থানীয় ইতিহাসবিদেরা জানিয়েছেন, উপমহাদেশের বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর বড় বড় সভা, সম্মেলন এই হলে হয়েছে। এখানে মহাত্মা গান্ধী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এখানে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

ইতিহাসবিদ আহসানুল কবীরের কথায়, কুমিল্লাবাসীর মননশীল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু টাউন হল। দুর্লভ পুস্তকের সংগ্রহশালা এটি। তাঁর প্রত্যাশা, কুমিল্লার এই বাতিঘরের স্থাপত্যশৈলী সংরক্ষণ করে যুগোপযোগী করা হোক।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন