বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মহানন্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, শহীদুল বাড়ির উঠানে পায়ে শিকল পরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘদিন শিকল পরার কারণে পায়ের গোড়ালিতে কালো দাগ পড়ে গেছে। হাত আর শরীরজুড়ে কামড়-খামচানোর প্রচুর দাগ রয়েছে। শহীদুল যে টিনের ঘরে থাকেন, সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢোকে।

শহীদুলের মা জানান, ছোটবেলা থেকেই শহীদুল মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় ১০ বছর আগে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মিলে টাকা তুলে শহীদুলকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য নিয়ে যান। কিন্তু সেখানকার কর্মকর্তারা শহীদুলকে দেখে সেখানে ভর্তি না করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। পরে শহীদুলকে এলাকার পল্লিচিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধপত্র খাওয়ানো হয়। এরপর কিছুদিন ভালো থাকলেও আবার তিনি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন।

default-image

শহীদুলের চাচাতো ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, শহীদুল বাড়ির বাইরে গেলে তাঁকে কেউ কিছু বললেই তিনি তাঁদের মারধর করতে যান। আবার হঠাৎই গ্রামের শিশুদের গলা ধরে আছাড় মারেন। এ কারণে তাঁর পায়ে শিকল পরিয়ে বাড়ির ভেতর আটকে রাখা হয়। শহীদুলের পরিবারে চিকিৎসা করানোর মতো কেউ নেই। তাঁর প্রতিবন্ধী ভাতা ও তাঁর মায়ের বিধবা ভাতার টাকা দিয়েই তাঁদের সংসার চলছে।

ছেলেকে নিয়ে কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন শহীদুলের মা কাজলরেখা বেওয়া। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। ঘর ও জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার করে। রাস্তায় তাকে কেউ পাগল বললে তাদের মারধর করে। ওর ওষুধ আনতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ওর বাবা মারা গেছেন। পরিবারে এখন উপার্জনক্ষম কেউ নেই। গ্রামবাসীই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।’ সন্তানের চিকিৎসার জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

কাঁকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শহীদুল ও তাঁর মায়ের ভাতা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। ওই টাকায় তাঁদের সংসার চলে না। শহীদুলের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি। উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো শহীদুল সুস্থ জীবন ফিরে পাবেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী প্রথম আলোকে বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী শহীদুলকে চিকিৎসা করালে ভালো হবে কি না, সেটি খোঁজ নেওয়া হবে। ওই পরিবার যেন ঘরসহ সরকারি অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা পায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন