মোকামতলা-জয়পুরহাট মহাসড়ক সংস্কার

১৮ মাসের কাজ, ৩২ মাসে অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ

 খুঁড়ে রাখা বেহাল আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩২ মাস ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কিচক এলাকা, মোকামতলা, শিবগঞ্জ, বগুড়া, ৯ আগস্ট
খুঁড়ে রাখা বেহাল আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩২ মাস ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কিচক এলাকা, মোকামতলা, শিবগঞ্জ, বগুড়া, ৯ আগস্টসোয়েল রানা
বিজ্ঞাপন

কার্যাদেশ অনুযায়ী সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৮ মাসে। ইতিমধ্যে ৩২ মাস পেরিয়ে গেছে। তবে কাজের মোট অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে এক দফা সময় বাড়িয়ে নিয়েছিলেন ঠিকাদার। সেই বর্ধিত সময়ও শেষ হয়ে গেছে আট মাস আগে।

বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণকাজের এই হাল। সড়কটি ব্যবহারকারীরা এই দীর্ঘ সময় ধরে চরম দুর্ভোগে আছেন। এ জন্য তাঁরা ঠিকাদারের চরম গাফিলতিকে দুষছেন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বলছে, নানাভাবে চেষ্টা করেও ঠিকাদার কাজ না করায় কার্যাদেশ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে তারা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক আকবর আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সওজ থেকে কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত নোটিশ আমরা পেয়েছি। নানা সংকটের কারণে এত দিন কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গত বছরের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়। তখন ঠিকাদার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই বর্ধিত সময়ও শেষ হয়েছে আট মাস আগে।

সওজ বিভাগ সূত্র জানায়, একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরাঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেয় সওজ। এর মধ্যে রয়েছে মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩৭ কিলোমিটার অংশ ১৮ থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করার কাজ। এ কাজের জন্য ২০১৭ সালে দরপত্র আহ্বান করে সওজ। এর মধ্যে বগুড়া অংশের ২৭ কিলোমিটারের কাজ পায় নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ২০১৭ সালের শেষের দিকে কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশ মোতাবেক, ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিলের মধ্যে বগুড়ার মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শেষ করার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু করে। কিন্তু খোঁড়াখুঁড়ি করে পুরোনো ইট, খোয়া ও কার্পেটিং তুলে রাখার পর বালু ফেলে চলে যান ঠিকাদারের লোকজন। গত বছরের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই বর্ধিত সময়ও শেষ হয়েছে আট মাস আগে। এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের আমতলী থেকে কালাই উপজেলার পুনট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আমতলী বন্দর থেকে হরিপুর বাসস্ট্যান্ড, কিচক ব্রিজ, কিচক পেট্রলপাম্প পর্যন্ত। এসব এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থান কাদা ও জলে একাকার। কোথাও কোথাও হয়ে গেছে বড় বড় গর্ত। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই মহাসড়কে বগুড়া, জয়পুরহাট জেলার পাশাপাশি নওগাঁর ধামইরহাট এবং দিনাজপুরের দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ পথের বাস-ট্রাকসহ নানা যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। সড়ক বেহাল হওয়ার কারণে চালকেরা যানবাহন চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হচ্ছে। আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে এ দুর্ভোগ চললেও সওজ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও তেমন কোনো তৎপরতা নেই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
২৯ ডিসেম্বর নাভানা কনস্ট্রাকশনকে চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছিল, কার্যাদেশ বাতিল ছাড়াও জামানত বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা আদায়েরপথে হাঁটবে সওজ। এরপরও সাড়া না পেয়ে ১৯ জুলাই মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
মো. আশরাফুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী, সওজ বগুড়া

তবে সওজ বলছে, এই কাজ শেষ করতে তারা নানাভাবে ঠিকাদারকে তাগাদা দিয়ে আসছে। তাতে কাজ না হওয়ায় সর্বশেষ ১৯ জুলাই সওজের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ সময় কাজ ফেলে রাখায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে, সরকার ও সওজের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয়, কাজটি শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড আগ্রহী ও সক্ষম নয়। এ অবস্থায় কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয় চিঠিতে। কার্যাদেশ বাতিল ছাড়াও ঠিকাদারের জামানতের ১০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করা এবং অসমাপ্ত কাজের ১০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আগেও ঠিকাদারকে দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। তাঁরা সর্বশেষ গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে চিঠি দেন। তাতে ২৮ দিন সময় বেঁধে দিয়ে বলা হয়েছিল, এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে কার্যাদেশ বাতিল ছাড়াও জামানত বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা আদায়ের মতো পথে হাঁটবে সওজ। এরপরও সাড়া না পেয়ে ১৯ জুলাই মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁরা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন