বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপতাল সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে কর্মরত একমাত্র চিকিৎসক এম এ আজাদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। নতুন কোনো চিকিৎসক পদায়ন না করায় এর পর থেকে বরিশাল বিভাগের একমাত্র ৩০ শয্যার এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট বন্ধ ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিকিৎসক পদায়ন করা হচ্ছিল না।

২০১৫ সালের ১২ মার্চ হাসপাতালের নিচতলায় আটটি শয্যা নিয়ে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ চালু হয়েছিল। বিভাগে ৮ জন চিকিৎসক ও ১৬ জন নার্সের পদ রাখা হয়। পরে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিটটি ৩০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। চালু থাকা পাঁচ বছরে পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগী বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিয়েছে।

সূত্র জানায়, শুরুতে ইউনিটটি পরিচালনার দায়িত্ব পান সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। বছরখানেক পর তিনি অবসরে গেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেনকে সেখানে পদায়ন করা হয়। কিন্তু তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। পরে জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ এ কে এম আজাদকে বার্ন ইউনিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ কে এম আজাদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। একমাত্র চিকিৎসকের মৃত্যুতে চিকিৎসক শূন্যতার কারণে ওই বছরের ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

default-image

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে এ পর্যন্ত ৪৩ জনের মৃত্যু ও কমবেশি ৯০ জন অগ্নিদগ্ধ হন। প্রাথমিক অবস্থায় গুরুতর ৮৬ জন দগ্ধ রোগীকে গত শুক্রবার সকাল থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এখানকার বার্ন ইউনিটে কোনো চিকিৎসক না থাকায় ঢাকা থেকে জরুরি ভিত্তিতে সাতজন চিকিৎসককে এই হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রোগীদের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁরা গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় ফিরে যান। ওই দুর্ঘটনার পর এই হাসপতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এরপরই ইউনিটটি চালু করার ও চিকিৎসক পদায়নের বিষয়টি গতি পায়।

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে আরও চিকিৎসক এবং দক্ষ জনবল দরকার। তিনি আশা করছেন, অচিরেই চিকিৎসক পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে আরও একজন সহযোগী অধ্যাপককে এখানে পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন