বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকেরা বলছেন, লকডাউনের এই কয়েক দিনে দেখা গেছে, কয়েক দিন খুব হার্ডলাইনে থেকেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আবার কয়েক দিন একটু ছেড়ে দিয়েছে। এই সময়ে আবারও মানুষ পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সংক্রমণটা আবার তখনই ছড়িয়েছে। লকডাউন কঠোরভাবে মেনে চলতে পারলে সংক্রমণ হার কমানো যেত। এখন আজ থেকে শুরু হওয়া লকডাউন যদি ভালোভাবে মানা হয়, তবে সংক্রমণটা কমবে।

সিভিল সার্জন দপ্তরের পাঠানো প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, লকডাউন শুরুর আগের দিন থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহে (১০ জুন-১৬ জুন) নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৮ জনের। এতে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২০৬ জন। শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ সময়ে মারা গেছেন ১৯ জন। শনাক্ত হিসাবে মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ।

পরের সপ্তাহে (১৭ জুন-২৩ জুন) এই জেলায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ৫৪২ জনের। এতে করোনা শনাক্ত হয় ২ হাজার ২৫৪ জনের। শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এই এক সপ্তাহে জেলায় মারা গেছেন ১৭ জন। শনাক্ত হিসাবে মৃত্যুর হার ছিল শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রথম সপ্তাহের চেয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহে সংক্রমণের হার বেড়েছে। তবে মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে।

লকডাউনের তৃতীয় সপ্তাহে (২৪ জুন-৩০ জুন) নমুনা পরীক্ষা হয়েছে মোট ১০ হাজার ৫১১ জনের। পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৫ জনের। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এই এক সপ্তাহে এই জেলায় মারা গেছেন ২৬ জন। শনাক্ত হিসাবে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ জেলায় শেষ সপ্তাহে সংক্রমণ হার কিছুটা কমলেও মৃত্যুর হার বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। এর বাইরে করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুও বেড়েছে।

রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন মো. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, সংক্রমণ হার ১৭ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে লকডাউনের এই কয়েক দিন। সে অর্থে বলা যায়, সংক্রমণ কমেনি একটুও। তার মানে লকডাউন ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি, মানুষ মানেনি। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, গতকাল বুধবার কঠোর লকডাউনের আগে রাজশাহী নগরে মানুষের স্রোত ছিল। এই জমায়েত থেকে এখন কেউ শনাক্ত হলে তাঁকে অন্তত সাত দিন কারও সংস্পর্শ ছাড়া থাকতে হবে। তাহলে শরীরের জীবাণু মারা যাবে। কিন্তু এই সাত দিনে যদি ওই ব্যক্তি বিধিনিষেধ না মানেন, পরীক্ষা না করান, তবে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাবে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন আজ থেকে শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ অনেকগুলো বাহিনী নামছে। তাঁদের দিয়ে এই এক সপ্তাহ যদি কঠোরভাবে মানুষকে ঘরে রাখা যায়, তবে সংক্রমণ কমবে। না হলে সামনে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। এখন করোনা আর শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন