default-image

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের জন্য বিশেষ পানি সরবরাহের ২টি যন্ত্রে ক্রটি হওয়ায় একযোগে ১৪টি ডায়ালাইসিস যন্ত্র ২১ দিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে এই হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করানো হয়। ফলে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস রোগীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোবাশ্বের হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, যন্ত্রগুলো ঠিক করার জন্য প্রতিদিনই একবার করে হাসপাতালের পরিচালককে জানানো হয়। কিন্তু ভালো হবে হবে বলে ২১ দিন পার হয়ে গেল। কিন্তু এখনো ঠিক হলো না। যন্ত্রগুলো ব্যবহার না হলে নষ্টও হতে পারে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নেফ্রোলজি বিভাগের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটে ২৬টি ডায়ালাইসিস যন্ত্রের মধ্যে ১৪টি যন্ত্র চালু রয়েছে। বাকি ১২টি যন্ত্র অনেক আগে থেকেই বিকল হয়ে পড়ে আছে। চালু ১৪টি যন্ত্রের মাধ্যমে রোগীদের কিডনি ডায়ালাইসিস হতে ২টি পানি শোধনাগার দিয়ে বিশেষ পানি ব্যবহার হয়। পানি সরবরাহের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলো চালু থাকে। কিন্তু যন্ত্র দুটি একই সঙ্গে বিকল হওয়ায় ৭ এপ্রিল থেকে সব কটি ডায়ালাইসিস যন্ত্র বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, প্রতিদিন প্রতিটি যন্ত্রে দুই থেকে তিনজন রোগীর ডায়ালাইসিস হয়ে থাকে। এ ইউনিটে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগীর প্রতিদিন নিয়মিত ডায়ালাইসিস হয়ে আসছিল। একজন রোগীর সপ্তাহে দুই দিন করে ডায়ালাইসিস হয়। যন্ত্রগুলো বন্ধ হওয়ায় নিয়মিত রোগীগুলো বিপাকে পড়েছেন।
রংপুর নগরের শালবনের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন এখানে কয়েক মাস থেকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করছেন। সপ্তাহে দুই দিন তাঁর ডায়ালাইসিস হয়ে থাকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ডায়ালাইসিস করতেই হবে। আর তা না হলে শরীর ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বাইরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অনেক বেশি টাকায় ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে রাহেমুল ইসলাম (৩১) নিয়মিত ডায়ালাইসিস করছিলেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করছিলাম। ডায়ালাইসিস বন্ধ থাকায় এখন চরম কষ্টে আছি।’

এমনিতেই কিডনি রোগীদের কষ্ট-বেদনা-যন্ত্রণা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে শরীরের রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসাসেবা চলে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো রোগীরা নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে এসে দেখেন যন্ত্রগুলো চলছে না। ডায়ালাইসিস ইউনিটে আগত রোগীদের মধ্যে একটা ভয় আর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নেফ্রোলজি বিভাগের যন্ত্রগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান বলেন, ডায়ালাইসিসের জন্য বিশেষ পানি সরবরাহের (পানি শোধনাগার) ২টি যন্ত্রে ক্রটি হওয়ায় ১৪টি যন্ত্র অচল হয়ে পড়ে। কেননা ওই যন্ত্র দিয়ে পানি সরবরাহের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।ৎ

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, গত ২০১০ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের রোগ নির্ণয়ে ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলো নেফ্রোলজি বিভাগে স্থাপন করা হয়।

হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রংপুরে এসব যন্ত্র মেরামত করার জন্য সার্বক্ষণিক কোনো অভিজ্ঞ লোক নেই। তাঁদের আনতে ঢাকায় চিঠি লিখতে হয়। ঢাকায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করি, খুব শিগগির এসব যন্ত্র ঠিক হবে। তবে কবে নাগাদ ঢাকা থেকে লোকবল আসবে, তা জানা যায়নি।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন