বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী ও রূপগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ইউপি নির্বাচনে ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মোট চার সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে তালা প্রতীকের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহরিয়ার পান্নার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। শাহরিয়ার পান্না ও তাঁর লোকেরা প্রকাশ্যেই সিরাজুল ইসলামের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁদের প্রভাবে অন্য তিন প্রার্থী প্রচারণার মাঠে থাকতে না পেরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী তাওলাদ হোসেনের কাছে অভিযোগ করেন। অন্য ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী হলেও তাওলাদের সঙ্গে শাহরিয়ার পান্নার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন নিয়ে বিরোধ চলছিল।

শনিবার রাতে মিরকুটিরছেঁও এলাকায় শাহরিয়ার পান্না ও তাওলাদ হোসেনের মধ্যে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তিন প্রার্থীদের অভিযোগ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ভাইস চেয়ারম্যানের দেহরক্ষী জসিম উদ্দিনের ছোড়া গুলিতে তাওলাদের শ্যালক ও সমর্থক আবদুর রশিদ (৩৩) নিহত হন। তিনি মাছিমপুর এলাকার মৃত জলিল মোল্লার ছেলে।

তবে রশিদের ভায়রা মো. রাসেল বলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহরিয়ার পান্না নিজেই রশিদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছেন। তবে শাহরিয়ার পান্না তাঁর বিরুদ্ধে আনা গুলি করার বিষয়ে নিহত রশিদের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন । এ ঘটনার জেরে রোববার সকালে তাওলাদ হোসেনের পক্ষের লোকজন ভাইস চেয়ারম্যান শাহরিয়ার পান্নার দুই সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন।

এ বিষয়ে শাহরিয়ার পান্নার সমর্থক মাছিমপুর এলাকার মো. রফিক বলেন, শনিবার রাতের ঘটনার জেরে তাওলাদ হোসেনের সমর্থকেরা রোববার সকালে তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন। শাহরিয়ার পান্নার আরেক সমর্থক হামিদুল্লাহ মিয়াও তাঁর বাড়িতে তাওলাদের সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহরিয়ার পান্না ও তাঁর দেহরক্ষী জসিম উদ্দিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) আবির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছি। মামলা দায়েরের জন্য নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা কিছুটা সময় নেবে বলে জানিয়েছে।’
শাহরিয়ার পান্নার সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে আবির হোসেন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা লোকমুখে একটি অভিযোগ শুনেছি, তবে কারও কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাইনি।’

শনিবার রাতের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মাছিমপুর ও মিরকুটিরছেঁও এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। রোববার কোনো ইউপি সদস্য প্রার্থী এসব এলাকায় প্রচারণা চালাননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন