২৫ বছর থাকি এই জায়গাত বসিয়া মানুষের মাছ কাটি দেও। কত মানুষের যে মাছ কাটি দিছোও (দিয়েছেন), তার হিসাব নাই। এক বেলা মাছ কাটিয়া আয় হয় ২০০-৩০০ টাকা। সেই টাকা থাকি ৬০ টাকা মাছ কাটার জায়গা ভাড়া দেওয়া লাগে।
রাবেয়া খাতুন (৬৭)

বয়স ৬৭ হলেও শরীর এখনো ভালো আছে রাবেয়ার। তেমন কোনো অসুখও নেই। একটি প্রিন্টের শাড়ি পরে একমনে মাছ কাটার কাজ করেই চলেছেন। বাজার করতে আসা অনেকেই তাঁকে চেনেন। কথা বলতে গেলেই তাঁর সময় চলে যায়। এরপরও সবার সঙ্গে আধো আধো স্বরে কথা বলেন। দরদাম তেমন একটা করা লাগে না। কারণ সবাই জানেন, মাছ কাটায় কত টাকা দিতে হবে।

আজ রোববার সকালে বাজারে মাছ কাটার সময় রাবেয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘২৫ বছর থাকি এই জায়গাত বসিয়া মানুষের মাছ কাটি দেও। কত মানুষের যে মাছ কাটি দিছোও (দিয়েছেন), তার হিসাব নাই। এক বেলা মাছ কাটিয়া আয় হয় ২০০-৩০০ টাকা। সেই টাকা থাকি ৬০ টাকা মাছ কাটার জায়গা ভাড়া দেওয়া লাগে।’

রাবেয়া আরও বলেন, ‘কত বড় বড় মাছ কাটনো। নদীর মাছ কাটি দেনো। খালি চোখ দিয়া দেখা হইলো। মাগুর, শিং, শোল, বাছা, সরপুঁটি, তেলাপিয়া, ট্যাংরা, রুই, কাতলা মাছ। কিন্তু বড় মাছ খালি কাটাই হইছে। প্যাটোত জোটে না বড় মাছ।’

প্রকারভেদে মাছ কাটার একেক দর। তবে ছোট মাছ কাটতে সময় লাগে বেশি। দামও কম পাওয়া যায়। মাটির মধ্যে একটি কাঠের ওপর বসে দীর্ঘক্ষণ কষ্ট করে মাছ কাটাকাটি করতে করতে কোমর লেগে যায় রাবেয়ার। কিন্তু কোনো উপায় থাকে না। মাছ কেটে দেওয়ার তাগাদা থাকে। সামান্য টাকা পাওয়া যায়। তবে কেউ কেউ খুশি হয়ে কিছু টাকা বেশি দিলেও তা প্রতিদিন হয় না বলে জানান রাবেয়া খাতুন।

আর কয়েক দিন পরে ঈদ। এই ঈদে নতুন শাড়ির আবদার করে বলেন, ‘একখান নতুন শাড়ি পাইলে ঈদের দিন পরনু হয়।’