বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামও পদ্মার ভাঙনের হুমকিতে আছে। শতভাগ বিদ্যুতায়িত এই ইউনিয়নকে বিলীন হওয়া থেকে বাঁচাতে গতকাল পর্যন্ত ১০১টি বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, পদ্মার পানি যত কমছে, ততই ভাঙন দেখা দিচ্ছে। দৌলতপুরের চিলমারী ও চকরাজাপুর ইউনিয়নের মাঝের চর খনন করলে ভাঙনের তীব্রতা কমবে।

দুই মাস ধরে এই ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে ৪ নম্বর চকরাজাপুর ওয়ার্ড পুরোটি বিলীন হয়েছে। ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অংশবিশেষ নদীতে ভেঙে গেছে।

গতকাল সোমবার সকালে ইউনিয়নের কালিদাসখালী গ্রামের যেখানে গিয়ে নৌকা ভিড়ল, সেখানে কিছুক্ষণ পরপর খানিকটা করে মাটি নদীতে ধসে যাচ্ছে। এই ভাঙনের মুখেই চকরাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন। প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, দুই কিলোমিটার দূরে এই বিদ্যালয়ের পাকা ভবন ছিল। নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পর সরকার নতুন ভবন করে দিয়েছে। করোনার কারণে এখানে পাঠদান শুরু করা যায়নি। এখন ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও পাকা ভবন ছিল। নদীতে ভেঙে যাওয়ার পরে এখন যেখানে নতুন ভবন করা হয়েছে, সেখানেও পানি। শিক্ষার্থীরা পথের ধারে বসে থাকে। শিক্ষকেরা সেখানে পাঠদান করান।

চকরাজাপুর ইউনিয়নে দুই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। চর কালিদাসখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, খোদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম সপরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। চেয়ারম্যান বলেন, তিনি বাড়ি করার জন্য একখণ্ড জমির জোগাড় করতে পারছেন না। আর এলাকার মানুষও তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন। কিন্তু তিনি কিছুই করতে পারছেন না।

কালিদাসখালী গ্রামে দেখা যায়, ইউনুস আলী ও রজব আলী নামে দুজন ঘর ভেঙে গাড়িতে তুলছেন। ইউনুসের স্ত্রী পারুল বেগম চুলায় রান্না চড়িয়েছেন। পারুল বলেন, ‘রাতেই মনে হইছিল গাঙে ভাসাইয়া নিব। আর এহানে থাহা যাইব না। তিনবার বাড়ি ভাইঙে এহানে আইছিনু। এহান থাইকাও যাইতে হচ্ছে।’

ভাঙনের শিকার হয়ে কালিদাসখালীতে এসে অন্যের জমিতে ঘর করায় মামলার আসামি হয়েছেন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ নূর মোহাম্মদ (৫৩)। তিনি বলেন, জমির জন্য ইজারা মূল্যও দিতে চেয়েছেন। মালিক তা মানছেন না। একদিন সালিসও হয়েছে। এখন তিনি কোথায় যাবেন, তা ঠিক করতে পারছেন না। ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

স্থানীয় লোকজন জানান, একই কারণে আবদুর রহমান, সাত্তার শিকদারসহ নদীভাঙনের শিকার পাঁচজনের নামে বাঘা থানায় মামলা হয়েছে। সাত্তারের স্ত্রী সেলিনা বেগম (৩৫) বলেন, ‘পড়ে থাকা জমিতে শুধু ঘরটা তইলে থাকতে চাই। হে টাকা যা চায় দিব, তা–ও রাজি হয় না। মামলা করেছে। পুলিশের সালিসও মানছে না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন