default-image

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের কংশুরে বদ্ধ খালের বাঁধ কেটে দিয়ে উন্মুক্ত করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ফলে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতার সমস্যার নিরসন হবে, উপকৃত হবে করপাড়া ও দূর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। বদ্ধ খাল উন্মুক্ত করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

গত সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. মনোয়ার হোসেন উপস্থিত থেকে ওই খালের বাঁধ কেটে দেন। এতে বনগ্রাম ও বলাকইড় বিলের ৩০ বছরের জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে দেড় হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে।

বনগ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ৩০ বছর ধরে কংশুরের এই খাল জলাশয় হিসেবে উপজেলা প্রশাসন ইজারা দিয়ে আসছে। যাঁরা খালটি ইজারা নেন, তাঁরা খালের বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করতেন। এতে একদিকে জমির পানি খালে নামার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, অন্যদিকে নদীর জোয়ার-ভাটার পানি জমিতে যেতে পারত না। খালের পাশের গ্রামের কৃষক ফসল আনতে নৌকা চলাচল করতে পারত না। এ ছাড়া খালটি উন্মুক্ত না থাকলে স্থানীয় গরিব মানুষ এখান থেকে মাছ শিকার করে তাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারত না। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন এই সমস্যা থাকবে না। আমরা এটার জন্য অনেকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং মানববন্ধন করেছি। স্থায়ী সমাধান হওয়ায় আমরা এখন আনন্দিত।’

বিজ্ঞাপন

করপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সাফু বলেন, ইজারা দেওয়ার কারণে খালের দুই পাশের অন্তত ২ হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। খালটি উন্মুক্ত করায় মানুষ উপকৃত হবে। নানাবিধ কাজে এই খালের পানি ব্যবহার করতে পারবে।

ইউএনও রাশেদুর রহমান বলেন, খালটি বদ্ধ জলাশয় হিসেবে উপজেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেওয়া হয়। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এবং উপজেলা জলমহাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কংশুর খালটির ইজারা বাতিল করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে এলাকার মানুষ আগের মতো জোয়ার-ভাটার পানি ব্যবহার করতে পারবে। চাষাবাদেও এ খালের পানি ব্যবহার করা যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন