বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ট্রলারের মালিক সালেহ আহমদ বলেন, গত বুধবার সকালে মাছ ধরার জন্য টেকনাফের কায়ুকখালীয়া ঘাট থেকে ৯ জন মাঝি নিয়ে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর মধ্যে আজ ভোররাতে জেলেরা জাল ওঠাতে গিয়ে দেখেন, জালে কয়েকটি লাল কোরালসহ বড় একটি পোপা মাছ আটকা পড়েছে। মাছটি ট্রলারে তোলার পর মাঝি মোহাম্মদ হোসেন বিষয়টি তাঁকে জানালে তিনি ট্রলারটি টেকনাফে নিয়ে আসতে বলেন।

স্থানীয় লোকজনের কাছে মাছটি ‘কালা পোপা’ নামে পরিচিত। এ মাছের মূল আকর্ষণ হলো পেটের ভেতর থাকা পটকা বা বায়ুথলি (এয়ার ব্লাডার)। এই বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা হয়। এ জন্যই পোপা মাছের এমন আকাশচুম্বী দাম।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, এ বছর টেকনাফে আরও দুটি কালা পোপা মাছ ধরা পড়েছিল। এই মাছের পটকা থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানি হয়। তাই এ মাছের এত দাম চাওয়া হয়। এ ছাড়া মাছটি কেটে বিক্রি করলে প্রতি কেজি ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব।

তবে সালেহ আহমদ জানান, স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী মাছটি সাড়ে সাত লাখ টাকা দিয়ে কিনতে চেয়েছেন। তবে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তিনি মাছটি কক্সবাজারে পাঠিয়েছেন। বিদেশে মাছের পটকা রপ্তানি করেন এমন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ৩২ কেজি ওজনের পোপা মাছ ধরা পড়ার খবরটি তিনি শুনেছেন। সাধারণত এত বড় পোপা মাছ ধরা পড়ে না। এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম মিকটেরোপারকা বোনাসি (Myeteroperca bohaci)। পোপা মাছের বায়ুথলি বেশ মূল্যবান। এই মাছের বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা যায় বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মাছের চাহিদা আছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি বছরের ২১ আগস্ট ২৭ কেজি ওজনের একটি পোপা মাছ ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন