ধানগড়া ইউনিয়নের ঝাপড়া গ্রামের লুৎফর রহমান বলেন, বর্ষার সময়ে দুধের দাম কমে যায়। অথচ ভুসির দাম কমে না। গরু লালনপালন করে তাঁদের লাভের বদলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। একই ধরনের কথা বলেন বাজারে দুধ বিক্রি করতে আসা আরও তিনজন ছোট খামারি।

তবে গরুর দুধের পাইকারি ক্রেতা ওবায়দুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগেও দুধের বাজার চাঙা ছিল। দই-মিষ্টি তৈরির পাশাপাশি হালখাতার জন্য প্রচুর দুধের দরকার ছিল। তখন দামও বেশি ছিল। এখন চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমে গেছে।

নিয়মিত গরুর দুধ কেনেন এমন দুজন ক্রেতা বলেন, আগের মতো এখন আর বাড়ি বাড়ি আম-দুধের উৎসব হয় না। ফলে বর্ষার সময় দুধের দাম কিছুটা কমে যায়। এতে তাঁদের মতো মানুষদের সুবিধা হয়।

ধানগড়া বাজারের গো-খাদ্য ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ সরকার বলেন, গরুর খাবার ভুসির দাম এখন কিছুটা কম। এখন প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও ভুসির দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ছিল।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে চার হাজার খামার আছে। এসব খামারে এক লাখ ৩২ হাজার গরু আছে। যার মধ্যে গাভি আছে প্রায় ৪০ হাজার।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ভেটেরিনারি সার্জন আমিনুল ইসলাম সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, গোখাদ্য বিশেষ করে ভুসির দাম অনেক বেশি। কয়েক দিন আগে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে ভুসি। সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় এখন ভুসির দাম কিছুটা কমেছে। এরপরও দুধের দাম ঠিকমতো পাচ্ছেন না খামারিরা। ভুসির বদলে গরুকে বেশি করে ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, খামারিদের ঘাস চাষে উৎসাহী হতে হবে। সেই সঙ্গে ভুসির দাম আরও কমানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

উপজেলা ডেইরি ফার্মস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মোত্তালেব সেখ বলেন, তাঁদের সমিতিভুক্ত খামারের সংখ্যা ৫২টি। এতে গাভি আছে প্রায় ৮০০। তাঁদের গাভি থেকে পাওয়া দুধ বিভিন্ন কোম্পানি, বড় বড় মিষ্টি ও দই তৈরিকারক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়। প্রতি লিটার দুধ ৪০ টাকায় বিক্রি করেন তাঁরা। মাঝে মধ্যে দাম কিছুটা কমে যায়। তিনি বলেন, গোখাদ্য ভুসির দাম বেশি হওয়ায় দুধ বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন