বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডুমুরিয়ার কৈয়া বাজার এলাকা থেকে আঠারো মাইল এলাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনার উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। সেখানকার তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪২৪টি। এতে ৩৮ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। আর আহত হয়েছে ৮৫১ জন। এর মধ্যে গত দুই বছরে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৩৭টি। এতে ৪৫৭ জন আহত ও ১৬ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ১০৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৭৩ জন আহত ও ১৩ জন মারা গেছে।

ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তারা বলেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে চুকনগর বাজার থেকে কৈয়া বাজারের মধ্যে। যারা ঘটনাস্থলেই মারা যায়, শুধু তাদের তথ্যই প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকে। এর বাইরে হাসপাতালে গিয়েও অনেক মানুষ মারা যায়, সেগুলোর তথ্য এর মধ্যে নেই।

তা ছাড়া সাধারণত বড় কোনো দুর্ঘটনা না হলে উদ্ধারকাজে যায় না ফায়ার সার্ভিস। প্রতিষ্ঠানটি যে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে, মূলত সেসবের তথ্য তাদের কাছে থাকে। তাদের কাছে থাকা তথ্যের বাইরেও ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যেখানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন পড়ে না। এতেও অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকে।

খুলনা-সাতক্ষীরা আঞ্চলিক মহাসড়কটির আগে প্রস্থ ছিল ২০ ফুট। দুই বছর আগে সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে ৩৫ ফুট করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সাড়ে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ঢাকার দিকে মালামাল যেতে এখন সড়কটি বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সড়কে বড় বাঁক, গতিরোধক না থাকা ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে কম গতির যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে।

ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, প্রতিদিনই ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার আটক করে জরিমানা করা হচ্ছে। কিছুদিন পর দেখা যায়, আবার ওই যানবাহনগুলো সড়কে চলাচল করছে। এটা নিয়ে স্থানীয় থ্রি-হুইলারের মালিক ও চালকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সম্প্রতি ওই সড়ক ঘুরে দেখা যায়, জিরো পয়েন্ট থেকে কৈয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক অনেকটা সোজা। সাধারণত ওই সড়কটুকুর মধ্যে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে না। তবে কৈয়া বাজারের পর থেকে রয়েছে কয়েকটি বড় বাঁক। খুলনা থেকে চুকনগর যেতে প্রথম যে বড় বাঁকটি পড়ে, সেটি হলো জিলের ডাঙ্গা এলাকায়। পরের বড় বাঁকটি হলো গুটুদিয়া এলাকার বাঁক। ওই বাঁকের দুই পাশে ছোট ছোট ‘গতিরোধক’ (রাম্বল স্ট্রিপ) দেওয়া আছে। কিন্তু ভারী গাড়ি চলতে চলতে তা প্রায় সমান হয়ে গেছে। এ ছাড়া বালিয়াখালী সেতুর আগে ও কাঁঠালতলা এলাকায় রয়েছে আরও দুটি বড় বাঁক। ফায়ার সার্ভিস ও সড়ক বিভাগের কাছে চারটি বাঁক ‘অন্ধ’ বাঁক (বিপরীত পাশের যানবাহন দেখা যায় না) হিসেবে পরিচিত।

খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সড়ক প্রশস্ত হওয়ার পর দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে গেছে। দুর্ঘটনা রোধে কিছু কিছু জায়গায় ছোট গতিরোধক দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নও বসানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনটি বাঁক সরলীকরণ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন