রাজেন্দ্রপুর-ভাওয়াল মির্জাপুর সড়কের অবস্থা বেহাল। সম্প্রতি সড়কটির বটতোলা মোড়ে
রাজেন্দ্রপুর-ভাওয়াল মির্জাপুর সড়কের অবস্থা বেহাল। সম্প্রতি সড়কটির বটতোলা মোড়েপ্রথম আলো

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর-ভাওয়াল মির্জাপুর রোডের মেম্বারবাড়ী থেকে বটতলা মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। এ কারণে এই সড়কের পাঁচ কিলোমিটার ভালো রাস্তার সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে মাস্টারবাড়ী-ভাওয়াল মির্জাপুর রোডের সাগর মার্কেট থেকে ভাওয়াল মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। এ কারণে এই সড়কের সাত কিলোমিটার ভালো রাস্তার সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে ভাওয়াল মির্জাপুর বাজারে যাওয়ার ওই দুটি সড়ক রয়েছে। দুটি সড়কই প্রায় আট বছর ধরে বেহাল। সড়ক দুটি পাকা হলেও সারা বছর খানাখন্দ, জলাবদ্ধতা আর ধুলাবালুতে একাকার হয়ে থাকে। এসব বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ থেকে শুরু করে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বারবার বলা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। সড়ক দুটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া সড়ক দুটির পাশে রয়েছে ১০-১২টি শিল্পকারখানা। ফলে এসব সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকেরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ওই সব শিল্পকারখানার মালামাল আনা–নেওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রাজেন্দ্রপুর-ভাওয়াল মির্জাপুর সড়ক
রাজেন্দ্রপুর থেকে ভাওয়াল মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত নিয়মিত অটোরিকশা চালান নিজাম উদ্দিন। তিনি জানান, সড়কটির মেম্বারবাড়ী থেকে বটতলা মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশে চলাচল করা যায় না বললেই চলে। এ পর্যন্ত কয়েকবার যাত্রী নিয়ে তাঁর অটোরিকশা উল্টে গেছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক অটোরিকশা চলাচল করে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত যেতে বিকল্প কোনো সড়কও নেই।

ট্রাকচালক সাইফুল ইসলাম জানান, এ সড়ক দিয়ে কারখানার মালামাল নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু এই এক কিলোমিটার সড়কের জন্য খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নোমান টেরি টাওয়েল মিলস লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল হক বলেন, সড়কটি বেহাল থাকায় বায়াররা গার্মেন্টসপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আসতে চান না। পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার সড়কের গর্তে আটকে পড়ায় কোনো কোনো সময় রপ্তানি করা পণ্যের শিপমেন্ট মিসিং হয়।

স্থানীয় একটি রপ্তানিমুখী কারখানার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম জানান, বাসা থেকে ভালো কাপড় পরে বের হয়ে রাজেন্দ্রপুর-ভাওয়াল মির্জাপুর রোডের বেহাল রাস্তাটুকু পার হলেই আবার কাপড় বদলানোর প্রয়োজন পড়ে। অফিস থেকে ফেরার পর বাসায় গেলে আবারও একই অবস্থার শিকার হতে হয়। এ ছাড়া কারখানার মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মাস্টারবাড়ী-ভাওয়াল মির্জাপুর সড়ক
বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা অলি আহম্মেদ বলেন, ‘করোনার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়তো এখন বন্ধ, কিন্তু আমাদের সন্তানদের প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মুখোমুখি হতে হয় মাস্টারবাড়ী-ভাওয়াল মির্জাপুর রোডের জলাবদ্ধতা আর কাদাপানির। সামান্য বেহাল সড়কের জন্য ভালো পাকা সড়কের সুফল আমরা ভোগ করতে পারছি না।’

কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান বলেন, সড়কটির সাগর মার্কেট থেকে মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার পথ পুরোটাই জলাবদ্ধতা আর কাদাপানিতে ভরপুর। এ সড়কে হেঁটে পথ পাড়ি দেওয়ারও সুযোগ নেই। রাস্তা খারাপ থাকায় যানবাহনেও বাড়তি ভাড়া দিয়ে চলতে হয়। চাকরিজীবীরাও রাস্তা খারাপ থাকায় সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারেন না।

বিজ্ঞাপন
তিন বছর আগে সড়ক দুটি সংস্কার করা হয়েছিল। সংস্কারের কিছুদিন পরই সিটি করপোরেশন তুরাগ নদ পর্যন্ত তাদের ড্রেন নির্মাণকাজের খনন শুরু করে। এরপর থেকে মাস্টারবাড়ী-ভাওয়াল মির্জাপুর সড়ক দিয়ে চলাচল করতে সমস্যা দেখা দেয়।
আবদুল বারেক, নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল বারেক জানান, বিষয়টি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন সড়কটি মেরামত করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে মেম্বারবাড়ী থেকে বটতলা পর্যন্ত ওই সড়কের ৩৫০ মিটার সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন জোন-৫–এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসিবুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য মাস্টারবাড়ী-ভাওয়াল মির্জাপুর সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এই রাস্তার মেরামতকাজ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেই করে দেওয়া হবে। ড্রেনের কিছু পয়েন্ট কানেক্টিং বাকি রয়েছে, তা শেষ করে মেরামতের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। ইতিমধ্যে সড়ক মেরামতের জন্য ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0