জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের হাজিরপাড়া বাজার ও আশপাশের গ্রাম। সম্প্রতি তোলা।
জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের হাজিরপাড়া বাজার ও আশপাশের গ্রাম। সম্প্রতি তোলা। প্রথম আলো

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের হাজীমারা আশ্রয়ণকেন্দ্রে বসবাস করেন দুলাল সরদার। নিজের কোনো ঘর না থাকায় সরকার আশ্রয়ণে তাঁকে একটি কক্ষ বরাদ্দ দেয়। ধারদেনা করে এ বছর তিনি পুকুরে মাছের পোনার উৎপাদন করেন। মাছ চাষে বিনিয়োগ করেন তিনি ৬০ হাজার টাকা। এ নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে জোয়ারের পানি। কয়েক দিন আগে হঠাৎ জোয়ারে তাঁর পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রচুর লোকসান হয়েছে তাঁর।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট হঠাৎ অস্বাভাবিক জোয়ারে মেঘনা নদীর তীরবর্তী রামগতি, কমলনগর ও রায়পুরের প্রায় ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা জোয়ারে দুলাল সরদারের মতো পুকুরের কয়েক শ মাছচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া জোয়ারে পানিবন্দী হয়ে পড়ছে লক্ষাধিক মানুষ।মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, মেঘনায় ৫ আগস্ট ৪ ঘণ্টার অস্বাভাবিক জোয়ারেই লক্ষ্মীপুর জেলায় আড়াই কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষির সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। জোয়ারের পানিতে ৪৯০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট হঠাৎ মেঘনা নদীর জোয়ারে মৎস্য সম্পদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কমলনগর উপজেলার ২১০টি পুকুরের ১ কোটি ১০ লাখ টাকার মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। রামগতি উপজেলার ২০০টি পুকুর ও মৎস্য খামারের ৮০ লাখ টাকা ও রায়পুর উপজেলার ৮০টি পুকুরের ৬০ লাখ টাকার মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি এলাকার মাছচাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি তিনটি পুকুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষ করি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ জোয়ারে পুকুরগুলো ভেসে যায়। চোখের সামনে দিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

রায়পুর উপজেলার চর বংশী গ্রামের মাছচাষি খলিলুর রহমান জানান, হঠাৎ করে পানি এসে পুকুরের প্রায় এক লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। পুনরায় মাছ চাষের জন্য সরকারি সহায়তা না দিলে পথে বসে যাওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় নেই। মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে রামগতি উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও কমলনগরের আবদুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, ‘জোয়ারে মৎস্য সম্পদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে মাছচাষিরা পুঁজি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। আমরা প্রতি ইউনিয়ন থেকে তথ্য নিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের তালিকা করে রেখেছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন