বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় ওই জায়গা ভেঙে যায়। পরে রিংবাঁধ হয়। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে শুকনা মৌসুমেও সেই বাঁধ ভেঙে যায়। তখন ওই স্থানে ৩০০ মিটার দীর্ঘ নতুন রিংবাঁধ নির্মাণ করা হয়। গত সপ্তাহের কয়েক দিনের বৃষ্টি ও নিম্নচাপের কারণে পশুর নদে পানির চাপ বেশি ছিল। পানির চাপে বুধবার দুপুরে পানখালী পূর্বপাড়া গ্রামের বাঁধের একাংশ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে প্লাবিত হয় বড় খলিশা, পানখালী পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মধ্যপাড়া গ্রামসহ চার–পাঁচটি গ্রাম।

পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, জায়গাটা বারবার ভাঙছে। শুধু এই জায়গা নয়; ৩১ নম্বর পোল্ডারের অন্তত ১৫টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থায়ী বাঁধ দেওয়া ছাড়া এর কোনো প্রতিকার নেই।

ছোট চালনা গ্রামের রউফ শেখ বলেন, ‘আমার ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। ধান সব তলিয়ে গেছে। ধান একেবারে নষ্ট হলে মানুষের ভীষণ বিপদ হবে। আবার বাঁধ আটকাতে দেরি হচ্ছে; আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’

পানখালী ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় অন্তত চার শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানকার একমাত্র ফসল আমন ধানের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেও শেষ পর্যন্ত আমরা টিকিয়ে রাখতে পারিনি। জায়গাটাও বিপজ্জনক। আশপাশে মাটির ঘাটতি আছে। জোয়ারে ভেঙে যাওয়া অংশ আরও বড় হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে ওই জায়গা তিন–চারবার ভেঙেছে। এবার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে প্রায় ১২০ হেক্টর জমির আমন ধান ডুবে গেছে। এক-দুই দিনের মধ্যে পানি সরে না গেলে পুরো জমির ফসলই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনা পওর বিভাগ-১–এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, ‘স্থানীয় জনগণ জায়গা না ছাড়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী রিংবাঁধটা করা যায়নি। নদীর কাছাকাছি জায়গা দিয়ে বাঁধ করা হয়েছিল। জোয়ারের পানির চাপ বেশি থাকায় এবং ভাঙা অংশ বড় হয়ে যাওয়ায় একটু সময় লাগবে। চারপাশে পানি থাকায় কাজ করাটা একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আরও দু-তিন দিন লাগবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন