যার নামে এই পাড়ার নামকরণ করা হয়েছে, সেই সিদ্দিক কাজীর বসতভিটা গতকাল বিলীন হয়ে গেছে। সিদ্দিক কাজী বলেন, ‘বাপ-দাদার নিজস্ব জমিতে দীর্ঘদিন বসবাস করছি। সকালে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তীব্র স্রোত এবং ঘূর্ণিতে আমার বসতভিটা, স্থানীয় নিজাম ফকির, হান্নান কাজী, মান্নান কাজী, মোকাই মোল্লা, একেম শেখ, হারুন ভূঁইয়া, সালাম ফকিরসহ ১০টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়।

সিদ্দিক কাজী আরও বলেন, ‘যেখানে জিও ব্যাগ ফেলা প্রয়োজন, সেখানে ফেলা হচ্ছে না। ঘরের চালাসহ জিনিসপত্র নিয়ে পাশের পাকা সড়কে রেখেছি। এখন কোথায় যাব, ঠিকানা পাচ্ছি না।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, সকালে ভাঙনের খবরে তিনি ছুটে আসেন। তাঁর সামনেই সব ভাঙতে থাকে। তিনি দ্রুত বিআইডব্লিউটিএকে জিও ব্যাগ ফেলার অনুরোধ করেন। এর মধ্যেই পাঁচ-ছয়টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়। আরও কয়েকটি পরিবার অন্যত্র সরে যায়।

ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট থেকে ৫ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত তাঁর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্দিক কাজীপাড়ার প্রায় ২০০ পরিবার এবং লঞ্চঘাট ও ১ নম্বর ফেরিঘাটের মজিদ শেখের পাড়ার ৬০০ পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বলেন, ‘ভাঙন প্রতিরোধে লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়মিত কাজ চলছে। ৪ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙনের তেমন লক্ষণ না পাওয়ায় সেখানে কোনো কাজ হয়নি। তবে সকালে হঠাৎ ভাঙনের খবর পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করি। তীব্র স্রোতের কারণে দুই সপ্তাহ ধরে ৪ নম্বর ঘাটে ফেরি ভিড়তে পারছে না। ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঘাট বন্ধ করে স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন