সেতুটি গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর ও বালুহা গ্রামকে যুক্ত করেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শিবপুর ও বালুহা গ্রাম হয়ে রামগোপালপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলে গেছে একটি কাঁচা রাস্তা। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৫৪৫ মিটার।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুর উপজেলার শিবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হয়েছে ওই কাঁচা রাস্তা। এই রাস্তা ধরে আনুমানিক ৭০০ মিটার যাওয়ার পর বিলের ওপর ভেঙে যাওয়া সেতুর দুই পাড় সংযোগ করতে রেললাইনের মতো দেখতে একটি মোটা লোহার পাত বিছানো। পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি হাতল আছে। শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার হচ্ছে।

সেতুর বিষয়ে জানতে চাইলে শিবপুর গ্রামের ৭২ বছর বয়সী আবদুল মান্নান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সেতুটি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও ওই স্থানে নতুন সেতু আর হয়নি। একসময় সড়কটি দিয়ে মানুষ খুব কম চলাচল করত। তবে বর্তমানে শিবপুর-বালুহা সড়কের পাশে অনেক নতুন নতুন বাড়ি হয়েছে। মানুষ বেড়েছে। এ কারণে ওই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা খুব জরুরি।

শিবপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সেতুটি না হওয়ায় চরম ভোগান্তি পড়েছে শিবপুর ও বালুহা গ্রামের মানুষ। ছোট ছোট শিশুরা কাঁচা সড়কটি দিয়ে বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু সেতু না থাকায় শিশুরা খুব ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। প্রায়ই লোহার পাতে পা পিছলে শিশুরা বিলের পানিতে পড়ে যায়। তখন গ্রামের মানুষ শিশুদের বিল থেকে উদ্ধার করে। বিভিন্ন সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে মৌখিকভাবে নতুন একটি সেতুর দাবি জানালেও কোনো কাজ হয়নি।

শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল বলেন, গ্রামের মানুষ প্রতিদিন রামগোপালপুর বাজারে যায় নানা প্রয়োজনে। সেতুটি না থাকায় যেতে হয় হেঁটে। এতে অনেক বেশি সময় লাগে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল আমিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘গৌরীপুর উপজেলার এ সেতুটির বিষয়ে কোনো জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় বাসিন্দা আমাদের জানাননি। লিখিতভাবে জানালে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে শিবপুর গ্রামে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠাব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন