বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সীমা গত রোববার শেষ হয়। উপজেলার সরকারি মুজিব কলেজে ১ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮৫ জন, সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজে ৪৬২ জনের মধ্যে ২৮৪, হাতিয়া মহাবিদ্যালয়ে ২৯৩ জনের মধ্যে ১৩২, বোয়ালী কলেজে ৪৩০ জনের মধ্যে ১৬৫, বড়চওনা-কুতুবপুর কলেজে ৭৩৭ জনের মধ্যে ৩৪৬, পাহাড়কাঞ্চনপুর বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে অবস্থিত বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৭৮ জনের মধ্যে ২৯৭, সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভ. স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৫৮ জনের মধ্যে ৭৮, সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৬৩ জনের মধ্যে ৩৯ ও পলাশতলী মহাবিদ্যালয়ে ৭৬ জনের মধ্যে মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। ফরম পূরণ করেছে ১ হাজার ৯৪৫ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত বছর উপজেলায় ২ হাজার ৪৪৫ জন ফরম পূরণ করেছিল। করোনার কারণে পরীক্ষা ছাড়াই তারা সবাই ‘অটোপাস’ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলে, অনেক দিন ধরে কলেজ বন্ধ। এর মধ্যে তার বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামী তাকে আর পড়াতে চান না। নির্বাচনী পরীক্ষা ছাড়াই এবার ফরম পূরণের সুযোগ থাকার পরও ওই ছাত্রী তাই এইচএসসির ফরম পূরণ করতে পারেনি।

হাতিয়া মহাবিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ থাকায় পড়াশোনা বাদ দিয়েছি। শুনেছি এবার সরকার অটোপাস দেবে না। আর্থিক অবস্থাও খারাপ। পাসপোর্ট করতে দিয়েছি। বিদেশে চলে যাব। এ কারণেই এবার ফরম পূরণ করিনি।’

হাতিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রহিজ উদ্দিন বলেন, করোনার কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকে পরীক্ষা দিচ্ছে না। অনেকে রোজগারে নেমেছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ক্লাস বন্ধ থাকায় অনেক ছাত্রীর বিয়েও হয়ে গেছে।

উপজেলার মহানন্দপুর গ্রামের আবদুস সবুর মিয়া বলেন, তাঁর মেয়ের এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও ফরম পূরণ করেনি। মেয়েকে মাস ছয়েক আগে বিয়ে দিয়েছেন। এখন তাঁর ঝামেলা শেষ। স্বামীর বাড়ি লোকজন মেয়েকে আর পড়াতে চান না। কলেজ থেকে শিক্ষকেরা ফোন করলেও তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মেয়ে ফরম পূরণ করবে না।

পলাশতলী কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাইদ মিয়া মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য তাঁর কলেজের সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকেরা একাধিকবার যোগাযোগ করেন। অনেকের বাড়িতেও যান তাঁরা। এরপরও অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি।

সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভ. স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘এবার বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি পরীক্ষা হবে না। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা হবে। দুই দফা ফরম পূরণের সময় বাড়িয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এরপরও শিক্ষার্থীরা কেন যে ফরম পূরণ করল না, তা বুঝতে পারছি না। যারা এ সুযোগেও ফরম পূরণ করেনি, তারা আসলেই শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ল।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ কারণে দরিদ্র পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে রোজগারের জন্য টুকটাক কাজ করছে। অনেক ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। এ ছাড়া অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবসহ আরও নানা কারণে এবার অনেক শিক্ষার্থী এইচএসসির ফরম পূরণ করেনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন