বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন ছাত্রীদের মাঠে জড়ো করে করোনার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁর জন্য দোয়া চান। কারণ, আগামীকাল সোমবার থেকে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকছেন না। পদোন্নতি পেয়ে তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হয়েছেন। প্রিয় শিক্ষকের জন্য অনেকেই মন খারাপ করল।

প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খোলার প্রথম দিন বিদ্যালয়ে এসেছে ষষ্ঠ, দশম ও ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী মিলে প্রায় ৫০০ ছাত্রী। এদের মধ্যে সকালের শিফটে আসে ২৫০ জন। বাকিরা দুপুরের শিফটে আসে।

সকাল নয়টার দিকে কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলে গিয়ে দেখা গেল একই চিত্র। লাইনে দাঁড় করিয়ে প্রথমে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। এরপর জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধুয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠানো হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে মাস্কও বিতরণ করা হয়। অনেক দিন পর শিক্ষার্থীরা একে অপরকে কাছে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা।

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আফরিদ বলে, দেড় বছর আগে সে মায়ের সঙ্গে ভর্তি হতে এসেছিল এই বিদ্যালয়ে। আজ দ্বিতীয়বার এল। মাঝখানে দেড়টা বছর কেটেছে ঘরেই। এখন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হতে, খেলাধুলা করতে পেরে তার আনন্দ হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম রমজান আলী প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি নির্দেশনামতে দশম শ্রেণি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস পাচ্ছে এবং অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন ক্লাস পাবে। আজ বিদ্যালয়ে এসেছে ষষ্ঠ শ্রেণির ২৮০, দশম শ্রেণির ২৪০ ও এসএসসি পরীক্ষার্থী ৬০ জন।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছালেহ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শহরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা মেনেই পাঠদান শুরু হয়েছে। শতভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মুখে মাস্ক ছিল।

কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রামমোহন সেন বলেন, বিদ্যালয়ে দুই পালায় শিক্ষার্থী রয়েছে ৭২০ জন। সকালের পালায় এসেছে ১৭০ জন। কম উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকের পোশাক ছোট কিংবা নষ্ট হয়ে গেছে। সবাই নতুন পোশাক কিনতে পারেনি। সব মিলিয়ে উপস্থিতি কিছুটা কম।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আজ থেকে জেলার ৯টি উপজেলায় ৬৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলেছে। জেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) স্কুল ও কেজি স্কুল আছে আরও তিন শতাধিক। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন