৫৪৪ দিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, কী খবর বল...
শহরের গোলদীঘির পাড়ে জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। আজ রোববার সকাল সাতটার দিকে হেঁটে, রিকশায় কিংবা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে (টমটমে) চড়ে বিদ্যালয়ে আসছিল ছাত্রীরা। তাদের বেশির ভাগ ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ও ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীরাও। সবার মুখে মাস্ক, পিঠে স্কুলব্যাগ। একজন অপরজনকে দেখামাত্রই হাসি দিয়ে জানতে চাইছে—এত দিন পর দেখা, কী খবর বল! কেমন ছিলি এত দিন?
সড়কের পাশে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ফটক অতিক্রম করার সময় ছাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। এরপর হাত ধুয়ে ঢুকতে হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে।
২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া। এই শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলে, করোনার কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে স্কুল বন্ধ। আজ ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৪৪ দিন বন্ধু নুসরাত জাহানের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। নুসরাত জাহান বলল, ‘এত দিন ঘরেই ছিলাম। এখন আগের জায়গায় ফিরে এসে স্মৃতি রোমন্থন করছি। একে অপরের খোঁজখবর নিচ্ছি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন ছাত্রীদের মাঠে জড়ো করে করোনার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁর জন্য দোয়া চান। কারণ, আগামীকাল সোমবার থেকে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকছেন না। পদোন্নতি পেয়ে তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হয়েছেন। প্রিয় শিক্ষকের জন্য অনেকেই মন খারাপ করল।
প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খোলার প্রথম দিন বিদ্যালয়ে এসেছে ষষ্ঠ, দশম ও ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী মিলে প্রায় ৫০০ ছাত্রী। এদের মধ্যে সকালের শিফটে আসে ২৫০ জন। বাকিরা দুপুরের শিফটে আসে।
সকাল নয়টার দিকে কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলে গিয়ে দেখা গেল একই চিত্র। লাইনে দাঁড় করিয়ে প্রথমে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। এরপর জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধুয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠানো হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে মাস্কও বিতরণ করা হয়। অনেক দিন পর শিক্ষার্থীরা একে অপরকে কাছে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আফরিদ বলে, দেড় বছর আগে সে মায়ের সঙ্গে ভর্তি হতে এসেছিল এই বিদ্যালয়ে। আজ দ্বিতীয়বার এল। মাঝখানে দেড়টা বছর কেটেছে ঘরেই। এখন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হতে, খেলাধুলা করতে পেরে তার আনন্দ হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম রমজান আলী প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি নির্দেশনামতে দশম শ্রেণি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস পাচ্ছে এবং অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন ক্লাস পাবে। আজ বিদ্যালয়ে এসেছে ষষ্ঠ শ্রেণির ২৮০, দশম শ্রেণির ২৪০ ও এসএসসি পরীক্ষার্থী ৬০ জন।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছালেহ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শহরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা মেনেই পাঠদান শুরু হয়েছে। শতভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মুখে মাস্ক ছিল।
কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রামমোহন সেন বলেন, বিদ্যালয়ে দুই পালায় শিক্ষার্থী রয়েছে ৭২০ জন। সকালের পালায় এসেছে ১৭০ জন। কম উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকের পোশাক ছোট কিংবা নষ্ট হয়ে গেছে। সবাই নতুন পোশাক কিনতে পারেনি। সব মিলিয়ে উপস্থিতি কিছুটা কম।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আজ থেকে জেলার ৯টি উপজেলায় ৬৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলেছে। জেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) স্কুল ও কেজি স্কুল আছে আরও তিন শতাধিক। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে।