বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কুয়াশার কারণে সকালে অভিযান শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় সহকারী পরিচালক আবদুল হালিম। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় ঘন কুয়াশা থাকায় কেউ দুর্ঘটনার স্থান নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না। এর মধ্যে স্থানটি ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর মোহনা হওয়ায় এখানে নদীর গভীরতা ও প্রশস্ততা বেশি। নৌবাহিনী অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে নদীর তলদেশের ছবি তুলেও ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শনাক্ত করা যায়নি। নদীর তলদেশ ও নদীর দুই পাশের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে ধলেশ্বরীপাড়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন শাহানাজ বেগম। তাঁর ছেলে নারায়ণগঞ্জ কমার্স কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন ট্রলারডুবির পর থেকে নিখোঁজ। দুই দিন ধরে ধলেশ্বরীর পাড়ে শাহানাজকে দিশেহারা হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার অভিযান শেষ করার পর শাহানাজ বেগম ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কাছে দৌড়ে যান। এ সময় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের বলেন, ‘তোমরা ঠিকমতো খোঁজো নাই, তোমাগো কামে গাফিলতি আছে।’ এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

আজ পোশাক কারখানার শ্রমিক জোসনা বেগমের স্বজনদেরও দেখা গেছে ধলেশ্বরীপাড়ে। জোসনার ভাই মানিক মিয়া জানান, গত বুধবার সকালে জোসনা কারখানার উদ্দেশে ঘর থেকে বের হয়েছিল। দিনভর মোবাইল বন্ধ পেয়ে স্বজনেরা কারখানায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন, জোসনা কাজে যায়নি। পরে ওই দিন রাতে ঘাটে এসে পরিচিতজনদের কাছে জানতে পারেন, ডুবে যাওয়া সেই ট্রলারে জোসনাও ছিল।

উদ্ধারকারী দলের কাজে ধীরগতির অভিযোগ এনে মানিক মিয়া বলেন, ‘দুই দিন পরপর শুনি দেশ উন্নত হইয়া গেছে। কিন্তু সবগুলা বাহিনী মিলে ছোট্ট একটা নদী থেকে তিন দিনেও মানুষগুলারে উদ্ধার করতে পারতেছে না। একটা লঞ্চ ডুবলে কী করত? আজকে আমার বোনেরে খুঁইজা পায় না, কালকে হয়তো আমারেও খুঁইজা পাইব না। তাইলে এত যন্ত্রপাতি আর উন্নতি দিয়া আমাগো লাভ কী?’

গত বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে একটি লঞ্চের ধাক্কায় অন্তত ৭০ যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী নিখোঁজ বলে জানা গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন