উদ্ধারকাজে যুক্ত ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণের পরও ভবনের বিভিন্ন জায়গার ধ্বংসস্তূপ থেকে আগুনের শিখা জ্বলে। ফায়ার সার্ভিসের ভাষায় একে ডাম্পিং বলা হয়। ভবনের কোথাও ডাম্পিং আছে কি না দেখা হচ্ছে। ডাম্পিং থেকে প্রচুর আগুনের তাপ বেরোচ্ছে ও প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছে। পুরোপুরি ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হলেই সেখানে আরও কোনো লাশ রয়েছে কি না সেটি তল্লাশি চালানো হবে।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ডেমড়ার ১৮টি ইউনিট এখনো কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ৫ তলা ভবনের ভেতরে ঢুকেছেন। তাঁরা সেখানে তল্লাশি চালিয়ে কোনো লাশ পাননি। পরে পুরো ভবনটিতে তল্লাশি চালানো হবে।

এদিকে দুপুরে ওই ভবনের চারতলা থেকে আগুনে পোড়া ৪৯ জনের লাশ পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অনেকেই কারখানার সামনে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিখোঁজ শ্রমিকদের কয়েক শ স্বজন ও শ্রমিকেরা কারখানার সামনে ভিড় করেন। তাঁদের সঙ্গে আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকদের দেখা গেছে। একপর্যায়ে তাঁরা কারখানার স্টাফ ও আনসারদের থাকার কোয়ার্টারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা ও ভাঙচুর চালান। আনসার সদস্যদের কাছ থেকে তিনটি শটগান ছিনিয়ে নেন এবং মিলের ভেতরে সাংবাদিকসহ ৮–১০ জনের মোটরসাইকেলসহ ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেন।

এ সময় মিলের আনসার সদস্য ও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ওই ঘটনায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্, র‌্যাবের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আগুনের ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।