বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শরীয়তপুরগামী যাত্রী স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চাকরিজীবী মানুষ। অল্প সময়ে কর্মস্থলে যেতে স্পিডবোটে যাতায়াত করে থাকি। এত দিন লঞ্চে চলাচল করেছি। স্পিডবোট চলাচল শুরু হওয়ায় আমরা খুশি।’

শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি খুব খুশি। কারণ ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য এ ঘাট ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি। পাঁচ মাসের বেশি স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিএ ছোট-বড় যেকোনো স্পিডবোটে ১২ জন যাত্রী নিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে। আগে বড় স্পিডবোটে ৩২ জন যাত্রী নেওয়া হতো।’

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ) সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘১০১টি স্পিডবোটে ১০১ জন চালকই যোগ্যতা সনদ পেয়েছেন। আমরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্পিডবোট চালানোর অনুমতি দিয়েছি। প্রতিটি স্পিডবোট সর্বোচ্চ ১২ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ১৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব স্পিডবোটের চালক এ নিয়ম অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। এ জন্য পুরো স্পিডবোট ঘাট আমরা সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছি।’

জানতে চাইলে বাংলাবাজার ঘাটের দায়িত্বরত নৌ পুলিশের পরিদর্শক আবদুল রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যুর পরে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট কর্তৃপক্ষ স্পিডবোটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নড়েচড়ে বসে। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে তারা স্পিডবোটের লাইসেন্সই শুধু দিয়েছে। চালকদের সেভাবে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়নি। আমরা চালকদের প্রশিক্ষণ নিতেও দেখিনি। তাই এই বেপরোয়া স্পিডবোটের চালকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ মে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়াঘাট থেকে ৩১ জন যাত্রী নিয়ে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছিল একটি স্পিডবোট। পুরোনো কাঁঠালবাড়ি ঘাটের কাছাকাছি আসার পর সেখানে নোঙর করে রাখা বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে ডুবে যায় স্পিডবোটটি। এ দুর্ঘটনায় মারা যান ২৬ জন। এ ঘটনার পর থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নৌ পুলিশ ও আদালত সূত্র বলছে, স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নৌ পুলিশের করা মামলায় চার আসামির মধ্যে ঘাটের ইজারাদা শাহ আলম খান সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে জেল থেকে বের হয়েছেন। ইজারাদার শাহ আলম খান মুন্সিগঞ্জের মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন খানের ছোট ভাই। এ ছাড়া এই মামলায় কারাগারে আছেন স্পিডবোটের চালক শাহ আলম, স্পিডবোটের মালিক চান্দু মোল্লা। এখনো পলাতক স্পিডবোটের আরেক চালক রেজাউল হক।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন