বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার অনুষ্ঠিত ৬৮টি ইউপির নির্বাচনে ৩৩টিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি ৩৫টির মধ্যে ৮টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ১২টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতারা এবং ১৫টিতে অন্যান্য দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

রংপুর জেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন, নৌকা প্রতীক পেলেই যে নির্বাচনে জয় সহজ হবে, এই চিন্তাভাবনা পুরোটাই নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দিয়েছে। নির্বাচন করতে গেলে মাঠপর্যায়ে দলের কাজ করতে হবে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো বিভেদ রাখা যাবে না। আর নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের জনসংযোগও থাকতে হবে। আর তা না হলে এভাবে ফল বিপর্যয় হতে থাকবে।

গাইবান্ধা জেলার ৩ উপজেলার ১৬টি ইউপি নির্বাচনে ৮টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বাকি আটটির মধ্যে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন। পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে অর্ধেকসংখ্যক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ জয় পেলেও তারা এই জয়ে সন্তুষ্ট নয়। প্রার্থীদের ধারণা ছিল, নৌকা প্রতীক পেলেই জয় হয়তো খুব সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু তা না, হয়েছে এর উল্টোটা।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শামস-উল-আলম বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলের প্রার্থীর পক্ষে নেতা-কর্মীরা কাজ করেননি। তাই এই নির্বাচনে ফল বিপর্যয় হয়েছে।

পঞ্চগড়ে আটটি ইউপি নির্বাচনে চারটিতে আওয়ামী লীগ, দুটিতে বিএনপি নেতারা এবং অপর দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত ২১টি ইউপি নির্বাচনে ১০টিতে আওয়ামী লীগ, ৬টিতে বিএনপির নেতা, ১টিতে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী এবং ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। নীলফামারীতে ১১টি ইউপির মধ্যে ৩টিতে আওয়ামী লীগ, ২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ৩টিতে বিএনপি নেতা এবং অপর ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের সাতটি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছয়টিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে বিএনপির এক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান। কুড়িগ্রামের ছয়টি ইউপির মধ্যে দুটিতে আওয়ামী লীগ ও চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, নানা কারণে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হেরেছেন। শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকায় দলের নেতা-কর্মীদের গা ছাড়া ভাব ছিল। তা ছাড়া যাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন, তাঁরাও তো আওয়ামী লীগের।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন