বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রকল্পের কাজ অনুযায়ী প্রতিটি পিআইসিকে বকেয়া বিলের টাকা পরিশোধের দাবিতে গতকাল সোমবার সুনামগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে। পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’। সংগঠনের নেতারা ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ না করে সরেজমিনে পরিদর্শন এবং স্থানীয় লোকজনের মতামত নিয়ে প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংগঠনের জেলা কমিটির আহ্বায়ক সুখেন্দু সেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে কুদরত পাশা, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদনূর আহমেদ, কৃষক বাবলু মিয়া প্রমুখ।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার ৪২টি হাওরে এবার ৬১৯ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হয়েছে। এসব কাজ করেছে ৮১০টি পিআইসি। একটি পিআইসিতে পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য থাকেন। এবার বাঁধের কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা ছিল ১৩৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কাজ শেষে উপজেলা কমিটি থেকে বিল পাঠানো হয় ১১৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এরপর জেলা কমিটি নানাভাবে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করে বিল নির্ধারণ করে ১০৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত পিআইসিদের বিল দেওয়া হয়েছে ৮২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষায় কাজ করা একটি প্রকল্পের সভাপতি কাজল মিয়া জানান, নীতিমালা হচ্ছে কৃষকেরা টাকা পাবেন, কাজ করবেন। কিন্তু পাউবোর লোকজন দু-তিন কিস্তি টাকা দিয়ে বন্ধ করে দেন। যখন বাঁধের কাজ হয়, তখন পাউবো ও প্রশাসনের কর্মকর্তা বাঁধে বাঁধে ঘোরেন। কাজ সঠিকভাবে না হলে নানাভাবে জরিমানা করেন, জেল দেন। অনেকেই ভয়ে ঋণ করে, সুদে টাকা এনে সময়মতো কাজ করিয়েছেন। এখন টাকা না পেয়ে বিপাকে আছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘আমার কাজে বরাদ্দ ছিল ১৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। বিল পেয়েছি ৯ লাখ টাকা। বাকি টাকার জন্য ছয় মাস ধরে ঘুরছি।’

সদর উপজেলার খরচার হাওরের একটি পিআইসির সভাপতি স্মৃতিরত্ন দাস বলেন, ‘আমার প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৫ লাখ টাকা। বিল পেয়েছি ৬০ ভাগ। পিআইসির লোকজন তো ধনী নয়, এভাবে আচরণ করলে ভবিষ্যতে কেউ বাঁধের কাজ করবে না।’

একসময় হাওরে ঠিকাদারদের মাধ্যমে বাঁধের কাজ হতো। ২০১৭ সালে হাওরে বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ফসলহানির পর পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিাকাদারদের বিরুদ্ধে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এরপর বাঁধের কাজে পাউবোর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়। কাজ বাস্তবায়ন করা হয় পিআইসি গঠনের মাধ্যমে। বাঁধ নির্মাণকাজের সময়সীমা হলো ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, ‘এভাবে বিল দিতে হয়রানি করা হলে এলাকার সাধারণ কৃষকেরা পিআইসিতে আসতে চাইবেন না। আমাদের মনে হয় এটা পিআইসি প্রথা বাতিলের একটা ষড়যন্ত্র।’

জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা প্রথম আলোকে বলেন, হাওরে বাঁধ নির্মাণ একটি বিশাল কাজ। এতে কৃষকসহ নানা পেশার মানুষ যুক্ত। প্রতিটি পিআইসি তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাক, এটা তাঁরাও চান। তাই বকেয়া টাকা ছাড়ের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন