default-image

সিলেট নগরীর রায়নগর-সোনার পাড়ার মুখে একটি পুকুর ছিল। এটি সংরক্ষণ করতে ২০১৮ সালে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে খননকাজ ও চারদিকে দেওয়া হয় প্রতিরক্ষা দেয়াল। এর মধ্যে একদিকের প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে পড়ে। তখন পুকুরের গভীরতা কমাতে ফেলা হয় কিছু মাটি। এতেও ধস ঠেকানো যায়নি। পাশের রাস্তা ও ভবন হেলে পড়ার শঙ্কায় পুরো পুকুরটি ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

পুকুর ভরাট করার এ ঘটনা সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। পুকুরটি রায়নগর-সোনার পাড়া জামে মসজিদ পুকুর নামে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে খনন ও প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় পুকুরটির এ অবস্থা হয়েছে।

সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পুরো পুকুর মাটিচাপা দিয়ে রাখা। পুকুরের একদিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক। পাকা পুকুরঘাট ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের কিছু অংশ দৃশ্যমান থাকায় পুকুরটি চিহ্নিত করা যাচ্ছে। রায়নগর-সোনার পাড়ার মহল্লার মুখে পুকুরটির কবে কাটা হয়েছিল, সে সম্পর্কে স্থানীয় ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। তবে নগরীর পুকুরটি শতবর্ষী বলে জানিয়েছেন অনেকে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, প্রতিরক্ষা দেয়ালের একটি অংশ প্রায় আট মাস আগে ধসে পড়ে। তখন প্রতিরক্ষা দেয়ালের কিছু অংশ সংস্কার করে পুকুরের গভীরতা কমাতে কিছু মাটি ফেলা হয়। এরপর পুকুরপাড়ে মহল্লার সড়কে কিছু অংশ ধস দেখা দিলে এক পাশের বহুতল একটি ভবন হেলে পড়ায় শঙ্কায় ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ভরাট করে ফেলা হয় পুকুরটি।

বিজ্ঞাপন

ভরাট করার কাজটি করেছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম শওকত আমীন। তিনি বলেন, পুকুর সংস্কারকাজে ঘাপলা ছিল। যে কারণে ধসে আশপাশের এলাকার রাস্তা ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মুখে পড়ে। এ জন্য প্রকৌশলীদের পরামর্শে পুকুরটি মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। ধস ঠেকাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

পুকুর সংস্কারকাজে কী ধরনের ঘাপলা ছিল জানতে চাইলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, ‘খননকাজ করা হয়েছিল অপরিকল্পিতভাবে। পুকুর গভীর করে খনন করার পর তীর সেই অনুপাতে সংরক্ষণ করা হয়নি। কাজটি আমার পূর্বতন কাউন্সিলর করেছেন। এ জন্য বিস্তারিত কিছু জানি না।’

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের দিকে ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দিনার খান পুকুরটির সংস্কারকাজ করেন। পিনু অ্যন্ড কানু নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও দিনার খান ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঠিকাদারি কাজ ক্রয় করে নিজেই সংস্কারকাজ করেন। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুকুরের গার্ড ওয়াল এসএস রেলিং ও মাটি খননকাজ করা হয়।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে পড়ায় সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীদের পর্যবেক্ষণে নির্মাণকাজে ত্রুটির বিষয়টি ধরা পড়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে।

সিটি করপোরেশন প্রকৌশল শাখার একটি সূত্র জানায়, সংস্কারকাজে পুকুরের পূর্ব ও উত্তর পাশের আরসিসি ওয়ালের ভাঙা জায়গায় কোনো রডের ব্যবহার দেখা যায়নি। পুকুরের উত্তর দিকে সংস্কারকাজের সঙ্গে যুক্ত রেখে সড়কের সংস্কারও করা হয়েছিল। সেই সড়কের মাঝামাঝি ফাটল দিয়ে একাংশ দেবে গেছে। ওই সড়কেও কোনো রডের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাস্তাটির কোথাও পাঁচ ইঞ্চি আবার কোথাও তিন ইঞ্চি ঢালাই ছিল। অন্যদিকে পুকুর খনন করতে ব্যবহার করা হয়েছে এক্সকাভেটর। কোনো মাপজোখ ছাড়াই গভীর খনন করায় প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে পড়ে।

যে পুকুর সুরক্ষায় এত সংস্কারকাজ করা হয়েছিল, দুই বছর পর সেই পুকুরই এখন গায়েব—এ রকম ক্ষোভ এখন রায়নগর-সোনার পাড়া এলাকাবাসীর মধ্যে। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিনার খান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, পুকুরটি ধসের কারণে আশপাশ এলাকা ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন শঙ্কায় মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্তে প্রকৌশলীদের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0