বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মিজানুর রহমান বলেন, বরিশাল বিভাগে মোট প্রায় ২১ লাখ ঘনমিটার পলিমাটি নৌপথগুলো থেকে খনন করা হবে। এই খননকাজের মধ্য দিয়ে শুকনো বা শীতের মৌসুমে নৌপথকে সচল রাখা সম্ভব হবে।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে নাব্যতা–সংকট দেখা দেয়। আর এ জন্য ওই সব স্থানে সীমিত খনন করে নৌ যোগাযোগ সচল রাখা হয়। কিন্তু এবার এই সমস্যা দেখা দিয়েছে শুষ্ক মৌসুম শুরুর এক মাস আগেই। আর তা প্রকট হয়ে নৌ চলাচল হুমকির মুখে পড়ার আগেই দ্রুত খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল অঞ্চলের খনন বিভাগ সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রোতের সঙ্গে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মেট্রিক টন পলি দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে আসে। এর মধ্যে ৪০ ভাগ পলি প্রাকৃতিক কারণে নদ-নদীতে জমা হয়। বাকি ৬০ ভাগ বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। এতে শুষ্ক মৌসুমে বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে নাব্যতা–সংকট দেখা দেয়। এই সময় ওই সব এলাকা জরুরি ভিত্তিতে খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কাজ করে বিআইডব্লিউটিএর খনন বিভাগ। কিন্তু তিন বছর ধরে আগাম এই সমস্যা হচ্ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমের আগেই নদীপথ খনন করে সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা-বরিশাল, পটুয়াখালী-ঢাকা, বরিশাল নদীবন্দর এলাকা, বরিশাল-ভোলাপথ নৌপথ, বরগুনা-ঢাকা নৌপথসহ সাতটি নৌপথে এই খনন কাজ চলবে।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, শিগগিরই ‍আমরা ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার নৌপথ ‍উদ্ধার করব। ‍এর মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল ‍আরও সহজ হবে। বিআইডব্লিউটিএর বর্তমানে ৪৫টি খননযন্ত্র আছে। ২০২৩ সালে ‍‍আরও ৩৫টি খননযন্ত্র যুক্ত হবে। বরিশাল বিভাগের খননকাজে ‍একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি খননযন্ত্র কাজ করবে। প্রয়োজনে সরকারের পাশাপাশি দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেরও খননযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে।

বিআইডব্লিউটিএর সূত্র জানায়, নদী খননের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ‍খননযন্ত্র বাড়লেও ‍আগে সাত থেকে আটটি খননযন্ত্রের জন্য যে সংখ্যক জনবল ছিল ‍এখনো তাই রয়েছে। ফলে জনবলের অভাবে দ্রুত কাজ করতে অনেক সময় সমস্যা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন