default-image

সাত বছরে তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে অবশেষে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সময়ে ফুলেফেঁপে উঠেছে প্রকল্পের ব্যয়। ৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প ২৫৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। নতুন করে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে। সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট অধিগ্রহণ করা জমি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (কেডিএ) বুঝিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

২০১৩ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এত দিন আটকে ছিল। প্রকল্প অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। গত ২২ জুলাই সংশোধিত প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে একনেক। বর্তমান ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা।

বর্তমান ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে এত দিন জমি বুঝিয়ে না দেওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। জমি বুঝে পাওয়ার পর দরপত্র আহ্বানসহ অন্যান্য কাজ প্রস্তুত করতে দুই থেকে আড়াই মাসের মতো সময় লাগবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে।

ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণ জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক আরমান হোসেন বলেন, সড়কটি শহরের মধ্যে হওয়ায় জমি অধিগ্রহণ করতে সমস্যা হয়। অন্যদিকে সরকার অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ তিন গুণ বৃদ্ধি করায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ২০১১ সালের নির্মাণসামগ্রীর দর (রেট শিডিউল) অনুযায়ী। বর্তমানে ২০১৮ সালের রেট শিডিউল চলছে। এসব কারণে ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে খুলনা নগরের রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে শিপইয়ার্ডের সামনে দিয়ে খানজাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু) পর্যন্ত চলে যাওয়া সড়কটি প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত। পরে বাড়িয়ে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পটির জন্য ৭ দশমিক ১৫ একর জমি অধিগ্রহণের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য ৪৩ কোটি ৭২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ছাড়ের অনুমোদনও দেওয়া হয়। ওই জমির মধ্যে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের জমি ছিল সাড়ে তিন বিঘার মতো। মূলত অন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জমি নিয়ে বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে। ন্যায্য মূল্য পাওয়ার দাবিতে শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ দুটি মামলাও করেছিল। গত জানুয়ারিতে শিপইয়ার্ডের জমিতে কাজ করতে গিয়ে শিপইয়ার্ড ও কেডিএর কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

জানতে চাইলে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কোন নিয়ম অনুযায়ী শিপইয়ার্ডের জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তা নিয়ে জটিলতা ছিল। এখন কেডিএ যেকোনো সময় কাজ শুরু করতে পারবে।

প্রকল্পে যা থাকছে

সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় চার কিলোমিটার। হবে চার লেন। দুই পাশে চার ফুট করে নালার ওপর ফুটপাত ও মাঝে তিন ফুট সড়কদ্বীপসহ রাস্তার প্রশস্ততা ধরা হয়েছে ৬০ ফুট। সড়কের চার কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপন করা হবে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ। ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি নান্দনিক সেতুও থাকবে। পুরো সড়ক ও সেতুজুড়ে থাকবে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা।

মন্তব্য পড়ুন 0