বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পেশায় জেলে রসরাজের বিরুদ্ধে দায়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় এ পর্যন্ত ১০২ বার তারিখ পড়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী নাসির মিয়া। গতকাল তিনি বলেন, আগামীকালও (আজ) মামলার তারিখ রয়েছে। তিনি বলেন, এ মামলায় পিবিআই রসরাজের ফেসবুক, মুঠোফোন ও মেমোরি কার্ডসংক্রান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন দিয়েছে। রসরাজের জড়িত থাকার কোনো আলামত তারা পায়নি। অথচ মামলায় কোনো অগ্রগতি নেই।

নাসিরনগরের এ ঘটনার আগে ও পরে দেশে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ১৭ অক্টোবর ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাসিরগর সদরের দত্তপাড়ার দত্তবাড়ির পারিবারিক মন্দির ও কাশীপাড়ার গৌরমন্দিরে হামলা, চেঙ্গাপাড়ার ছোট্ট লাল দাসের বাড়ি, পশ্চিমপাড়া ও বণিকপাড়ার ‍দুটি বাড়িসহ উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অঞ্জন কুমার দেবের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, রসরাজ দাসের বাড়িতে হামলায় সাতটি মামলা হয়েছে। এর বাইরে ফেসবুক পোস্টে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এনে রসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেন এসআই কাউসার হুসাইন। জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক (ডিবি) ইকবাল হোসেন বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন। তিনি চার নম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা। সাত মামলায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

ছয় মামলার পাঁচজন তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা জানান, মামলার তদন্ত চলছে। সাক্ষী নেওয়া হচ্ছে। কিছু সাক্ষী বাকি আছে। আর আগুনে পোড়ার ঘটনার মামলার রাসায়নিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

উপজেলা সদরের মহাকালপাড়া গৌরমন্দির ভাঙচুরের মামলায় ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ২২৮ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতার নাম রয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে ২২৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় ১০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সবাই জামিন পান। এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়নি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রসরাজের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা ছবি নাসিরনগরের হরিণবেড় বাজারের আল আমিন সাইবার পয়েন্ট অ্যান্ড স্টুডিও নামের দোকানের কম্পিউটারে সংরক্ষিত ছিল। হরিপুরের জাহাঙ্গীর মিয়া সেই ছবি সংরক্ষণ করেন। আদালতের নির্দেশে জাহাঙ্গীরের দোকানের দুটি হার্ডডিস্ক, দুটি পেনড্রাইভ, একটি মুঠোফোন জব্দ করে পুলিশ। জাহাঙ্গীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

একটি মামলার বাদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অঞ্জন কুমার দেব বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে ঘটনার সাত দিন পর পুলিশ তদন্তের জন্য এসেছিল। এরপর কেউ যোগাযোগ করেনি। প্রায় পাঁচ বছর পর দুই দিন আগে দুজন পুলিশ সদস্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এই হলো তদন্তের অগ্রগতি।’ অযথা কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে বলে জানান রসরাজের আইনজীবী নাসির মিয়া।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, সাত মামলার তদন্ত শেষের দিকে রয়েছে। যেকোনো সময় পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন